সাক্ষাৎকার একান্ত সাক্ষাৎকারে সোলায়মান চৌধুরী

একান্ত সাক্ষাৎকারে সোলায়মান চৌধুরী

-

নিউজবাংলা২৪  ডেস্ক:  এএফএম সোলায়মান চৌধুরী। নবগঠিত আমার বাংলাদেশ পাটির(এবি পার্টি)আহবায়ক। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান। চেয়ারম্যান ছিলেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন ও জনতা ব্যাংকের। ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও চট্টগ্রাম ওয়াসার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।জেলা প্রশাসক থাকাকালীন তার সাহসী কর্মকান্ডে তিনি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসেন। মহামারী করোনার সংক্রমণে যখন মানুষ আতঙ্কিত,দিশেহারা এমনি একটি সময়ে দেশে নতুন একটি রাজৗনৈতিক দলের উত্থান নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ। এই নতুন দলের আহবায়ক নির্বাচিত হয়েছেন সোলায়মান চৌধুরী। দলটি নিয়ে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা সমালোচনা। কেউ স্বাগত জানাচ্ছেন আবার ছুড়ে দিচ্ছেন তীর্যক সমালোচনা। এমনি সময়ে জনাব সোলায়মান চৌধুরী মুখোমুখি হয়েছিলেন নিউজবাংলা২৪.কম.বিডি- এর সহাযোগী সম্পাদক সুজন বিশ্বাসের । সাক্ষাৎকারটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

সরকারের সবচাইতে বড় ব্যর্থতা আমি বলব দলীয়করণ। সবকিছু নিজের দলের লোকজন দিয়ে করানো এবং সমালোচনা গ্রহণ না করার মনোভাব। আমার নিজের ত্রূটি বিচ্যুতি তো আমি নিজে দেখি না, অন্যে দেখে। অন্যে যদি আমার ত্রূটি বিচ্যুতি ধরিয়ে দেয় তাহলে তো আমার ওই ব্যক্তিকে সাধুবাদ জানানোর কথা। এই সরকারের মধ্যে তাদের নিজেদের ত্রূটি ধরিয়ে দেওয়া তারা সহ্য করতে পারেন এমনটি দেখা যায় না।

প্রশ্ন: আসসালামু আলাইকুম।

সোলায়মান চৌধুরী: ওয়ালাইকুম আসসালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। কেমন আছেন?

প্রশ্ন: জী ভালো। জনাব সোলাইমান চৌধুরী, আপনি কেমন আছেন?

সোলায়মান চৌধুরী: আলহামদুল্লিাহ। আল্লাহ ভালো রেখেছেন।

প্রশ্ন: আপনি নবগঠিত এবি পার্টির প্রধান বা আহবায়ক। এই মুহূর্তে আপনার অনুভূতি কী?

সোলায়মান চৌধুরী: আলহামদুলিল্লাহ। গুরুদায়িত্ব। মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার এ দায়িত্ব অত্যন্ত কঠিন। তারপরও ভালো লাগছে। চেষ্টা করব মানুষের অধিকার যেন মানুষ ফিরে পায়।

প্রশ্ন: এবি পার্টির নামকরণটি কীভাবে হলো?

সোলায়মান চৌধুরী: আমরা সারা দেশব্যাপী নাম আহবান করেছি। দুই শতাধিক নাম পেয়েছি। বহু সভায়, প্রায় বাইশটি তেইশটি সভায় আমরা এগুলো নিয়ে পর্যালোচনা করেছি। ক্রমান্বয়ে নাম কমতে কমতে সর্বশেষ ছাব্বিশটিতে আসলো। এই ছাব্বিশটি পর্যালোচনা করে আমরা আসলাম পনেরোটি নামে। সেখান থেকে আবার পর্যালোচনা করে আসলাম ছয়টি নামে। তারপর ছয়টি নাম থেকে আসলাম পাঁচটি নামে। এই পাঁচটি নাম থেকে আসলাম তিনটি নামে। তারপরে আসলাম দুটি নামে। এই দুটি থেকে পর্যালোচনা করে আমাদের মতামতের ভিত্তিতে সারা দেশব্যাপী আমাদের শুভানুধ্যায়ী, আমাদের সমর্থক, আমাদেরকে যারা ভালোবাসে তারা, আমাদের দেশের বিদগ্ধজন, আমাদের দেশের পণ্ডিতবর্গ, আমাদের দেশের শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি মানুষ সকলে মিলে সর্বাধিক ভোটে এই নামটি নির্বাচিত করেছি।

প্রশ্ন: এই কাজটি শুরু করেছিলেন ‘জনআকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ’ নামে। জনগণের আকাঙ্ক্ষাটা কী বলে আপনি মনে করেন?

সোলায়মান চৌধুরী: আমরা মূলত ‘জনআকাঙ্ক্ষা’ এই নামটি যখন দিই, তখন আমদের উদ্দেশ্য ছিল এই ‘জনআকাঙ্ক্ষা’ কথাটি নিয়ে মানুষের সামনে যাব এবং মানুষের আকাঙ্ক্ষা কী এটা জানার চেষ্টা করব। এই জানার চেষ্টার মধ্যেই আমাদের কাছে বেরিয়ে এলো সাম্য, মানবিক মর্যাদা আর সামাজিক সুবিচারের ভিত্তিতে মানুষ তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে চায়। মূলত জনআকাঙ্ক্ষাই হলো মানুষ তাদের অধিকার চায়।

প্রশ্ন: আপনি সরকারের সাবেক সচিব ছিলেন, বড় আমলা ছিলেন। যতদূর জানি আপনি অন্যায়ের সাথে কোনোদিন আপস করেননি। রাজনীতির চোরাগলিতে এসে আপনি আপনার সেই পুরোনো ইমেজটিকে কীভাবে ধরে রাখবেন?

সোলায়মান চৌধুরী: আপনি রাজনীতিকে কি চোরাগলি বলে এই কথাতে থাকবেন কি? রাজনীতি তো হলো মানুষের কল্যাণের জন্য। আমি এটাকে চোরাগলি বলতে রাজি নই। আপনি কীভাবে নেন সেটা আপনার বিবেচনা। তবে মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে হলে, মানুষের সেবা করতে হলে রাজনীতির কোনো বিকল্প নেই এটি সকলেই স্বীকার করে।

প্রশ্ন: জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে স্বাধীনতা বিরোধিতার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আপনি কেন পূর্বে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে যোগদান করেছিলেন?

সোলায়মান চৌধুরী: মূলত মানুষের কল্যাণ খুঁজতে গিয়ে অবসরের পর জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করি। মানুষের কল্যাণ কোন দলের দ্বারা সম্ভব বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মকান্ড পর্যালোচনা করে আমার কাছে মনে হয়েছিল যে জামায়াতে ইসলামী তুলনামূলকভাবে মানুষের কল্যাণ করার জন্য একটি যোগ্য দল হতে পারে। সেই জন্য জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করা।

প্রশ্ন: ফেসবুকে আপনাকে নিয়ে এবং এবি পার্টিকে নিয়ে বিভিন্ন সমালোচনা হচ্ছে। সেই সমালোচনার বিষয়ে আপনি কী বলবেন?

সোলায়মান চৌধুরী: কী সমালোচনা একটি কি বলবেন?

প্রশ্ন: যেমন বলা হয়ে থাকে আপনি আলবদর কমান্ডার ছিলেন। আপনি কি সত্যিই আলবদর কমান্ডার ছিলেন?

সোলায়মান চৌধুরী: হা হা হা। আমার খুব হাসি পাচ্ছে। নাহ, এ ধরনের কোনোকিছুর ধারে কাছেও আমি ছিলাম না।

প্রশ্ন: একটা ধর্মভিত্তিক দল থেকে বের হয়ে এসে আপনি একটি ধর্মনিরপেক্ষ দল গড়ে তুললেন। এটা নিয়ে অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেছে। আপনি কি ধর্মনিরপেক্ষ হয়ে গেলেন বা ধর্মহীন হয়ে গেলেন?

সোলায়মান চৌধুরী: ধর্মনিরপেক্ষ হওয়া কি ধর্মহীন হওয়া? আর ধর্মভিত্তিক দল থেকে বেরিয়ে এলে কি কেউ ধর্মহীন হয়ে যায়? তাহলে তো বাংলাদেশে কেবল আপনি যে একটা দলের কথা বললেন, তাদের দলের সদস্যসংখ্যা তো এদেশের জনসংখ্যার একদুই ভাগ মাত্র। তারা পাঁচ-ছয়ভাগ বা সাত ভাগ বা আট ভাগ ভোট পায়। কিন্তু তাদের দলে যুক্ত আছেন মাত্র এক দুই ভাগ মানুষ। তাহলে বাংলাদেশের কি আটানব্বই ভাগ মানুষ ধর্মহীন আপনি বলবেন? এত কঠিন কথা নিশ্চই আপনি বলবেন না।

প্রশ্ন: জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে আপনি ভুল করেছিলেন বলে মনে করেন কি?

সোলায়মান চৌধুরী: এটাকে ভুল বলা চলবে না। এটা আমার অনুসন্ধানের একটি পর্যায় ছিল। কোন দলটি ভালো, কোন দলের মাধ্যমে মানুষের কল্যাণ করা যাবে। সেই অনুসন্ধানের একটি পর্যায়। আমি এটাকে ভুল বলতে রাজি নই।

প্রশ্ন: আপনাকে তো দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাহলে একটা স্বাধীনতা বিরোধী দলের সাথে যুক্ত হয়েছিলেন এটা নিয়ে কি প্রশ্ন উঠতে পারে না?

সোলায়মান চৌধুরী: প্রশ্ন তো হাজার বার উঠতে পারে। প্রশ্ন উঠেছেও। আর আমি যাচাইও করে দেখেছি ভিতর থেকে। মানুষ যেটা বলে তার কিছুটা তো আমি ওই দলের অতীত কর্মকান্ডের মধ্যে দেখেছি।

প্রশ্ন: অভিযোগ আছে সরকারের অনুকূল্য এবং সমর্থন নিয়ে গত এক বছর দল চালাচ্ছেন। সে ব্যাপারে কী বলবেন?

সোলায়মান চৌধুরী: হাহাহা। অবাক হলাম। এই অভিযোগ যারা করেন তারা বোধহয় ভালো জানেন। সরকারের কোনো আনুকূল্য যদি থাকে, যারা এই অভিযোগ করেন তারা কি সেই আনুকূল্যগুলি আমাদেরকে না জানিয়েই নিয়ে গেলেন? আমরা তো সেই আনুকূল্য সম্বন্ধে কিছু জানি না।
প্রশ্ন: দল ঘোষণার পর আপনি কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

এ এফ এম সোলায়মান চৌধুরী: ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। দৈনিক প্রায় দুই হাজার সদস্য আমাদের দলে যুক্ত হচ্ছে এবং এটি আরও ব্যাপক বাড়ার সম্ভাবনা আছে।
প্রশ্ন: সাম্প্রতিককালে নতুন দল করে অনেকেই সফল হতে পারেননি। আপনি কীভাবে সফল হবেন?

সোলায়মান চৌধুরী: যারা সফল হয়নি তাদের কোনো লক্ষ্য আদর্শ কর্মসূচি যেগুলি তারা নিয়েছিলেন হাতে, মানুষ এগুলিকে গ্রহণ করেনি। আমাদের যে লক্ষ্য আদর্শ এবং কর্মসূচি সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচারের ভিত্তিতে আমরা মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই। এটি তো মানুষ গ্রহণ করেছে। না করলে এক বছরের মাথায় আমরা এই চৌষট্টি জেলায় এত লোক খুঁজে পেয়ে গেলাম এবং প্রায় তেতাল্লিশটি জেলায় আমাদের কমিটি হয়ে গেল? করোনার কারণে আমরা এখন বাকিগুলোতে কমিটি করতে পারছি না। করোনা গেলে তো আমরা আশা করি ছয়মাসের মধ্যে বাকি জেলাগুলোতে কমিটি করার কাজ শেষ করব। ইতোমধ্যেই উপজেলাগুলোতেও কমিটি গঠন করার কাজ শুরু হয়ে গেছে। সেটিও আমরা করোনা ভাইরাসের এই অবস্থাটা গেলে, দেশ স্বাভাবিক হলে ছয় মাসের মধ্যে সকল উপজেলায় কমিটি গঠন করতে পারব। এটা কি সাফল্য নয়?

প্রশ্ন: নিজের দলকে দুর্নীতিমুক্ত এবং গণতান্ত্রিক রাখার জন্য আপনার পদক্ষেপ কী?

সোলায়মান চৌধুরী: নিজের দলকে দুর্নীতিমুক্ত রাখার জন্য আর গণতান্ত্রিক রাখার জন্য আমি এই কথাটি আগে বলব, সেটি হলো এই, আমাদের দলের কোনো পদেই কোনো ব্যক্তি পরপর দুই মেয়াদের বেশি নির্বাচিত হতে পারবেন না। আমাদের এই দলটি কোনো ব্যক্তির দল নয়, এই দলটি কোনো পরিবারের দল নয়, এই দলটি কোনো গোষ্ঠীর দল নয়। এটি সাধারণ মানুষের দল এবং নির্বাচিত হয়ে আসবেন নেতাগণ তৃণমূল থেকে পর্যায়ক্রমে। যার যোগ্যতা থাকবে তিনিই নির্বাচিত হয়ে আসবেন। এটি গেল দলের গণতান্ত্রিক দিক। এখন আসেন দুর্নীতিমুক্ত থাকায়। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করব প্রথমে নিজেরা দুর্নীতিমুক্ত থাকার। নিজেরা যদি থাকতে না পারি, আমি দুর্নীতিপরায়ণ হয়ে দুর্নীতিবিরোধী ওয়াজটা করব কীভাবে বলুনতো? কাজেই নিজেকে দুর্নীতিমুক্ত থাকতে হবে। সেটা আমরা আছি এবং ইনশাল্লাহ থাকব। অতএব আমাদের নিচের দিকের লোকজনরাও দুর্নীতি মুক্ত থাকবেন। আমরা এরই মধ্যে ঘোষণাও দিয়েছি যে, আমাদের নেতারা মানুষের সেবা করে নেতা নির্বাচিত হবেন। মানুষের সেবা করে স্থানীয় সরকার অথবা বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মানুষ যদি যোগ্য মনে করে তখন তারা নির্বাচিত হবেন। এমন স্লোগান আমরা দিব না যে ‘আমাকে নির্বাচিত করুন, আমি আপনাদের সেবা করব’। আমরা বলব, ‘আমরা সেবা করেছি, আপনারা দেখেছেন, যদি যোগ্য মনে করেন আমাদেরকে ভোট দিন’। আর দুর্নীতি যদি কেউ করে, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান আমাদের গঠনতন্ত্রে আছে।

প্রশ্ন: এই মুহূর্তে জনগণের কাছে কী বার্তা দিতে চান?

সোলায়মান চৌধুরী: আমি এই দেশের সাধারণ মানুষকে আমার অন্তরের অন্তস্থল থেকে বলতে চাই, আসুন, আপনারা নিজেদের অধিকারের বিষয়ে সচেতন হোন; আপনাদের অধিকার কী এইটা আপনারা আপনাদের অন্তর থেকে খোলাসা করে প্রকাশ করুন এবং এই অধিকার অর্জন করার চেষ্টা করুন। আমরা আপনাদেরকে সহায়তা করব যাতে আপনারা আপনাদের অধিকার অর্জন করতে পারেন।

প্রশ্ন: গঠনতন্ত্রের ক্ষেত্রে দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের চেয়ে আপনাদের স্বাতন্ত্র্য কী?

সোলায়মান চৌধুরী: একটাই স্বাতন্ত্র্য, আমাদের এখানে সকল পদে নির্বাচিত হয়ে আসবে এবং এমন কোনো ব্যবস্থা থাকবে না যে, কাউকে আমি দায়িত্ব দিয়ে দিলাম তিনি কমিটি ঘোষণা করবেন। এইটা আমাদের দলে নাই। এটা একদম কাট অফ করে রাখা হয়েছে। ইট ইজ স্ট্রিকলি প্রহিবিটেড। এখানে নির্বাচিত হয়েই আসতে হবে। যেই আসুক।

প্রশ্ন: দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে কত সময় লাগবে?

সোলায়মান চৌধুরী: আমি আপনাকে একটু আগেও বলেছিলাম যে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তখন থেকে আরও ছয়মাস লাগবে মাঠপর্যায়ে আমাদের যে কাজগুলো বাকি আছে সেগুলো শেষ করে প্রতি উপজেলা পর্যন্ত কমিটি করে আমাদের কাউন্সিল আহবান করব। এতে অন্তত ছয় মাস লাগবে। আরও বেশিও লাগতে পারে। আমরা কালবিলম্ব না করে কাউন্সিল করে আমাদের দলের নেতা নির্বাচন করব।

প্রশ্ন: বর্তমান সরকারের কী সফলতা আছে বলে মনে করেন?

সোলায়মান চৌধুরী: দেখুন, প্রতিটি সরকারেরই সফলতাও থাকে, ব্যর্থতাও থাকে। বর্তমান সরকারেরও তো সফলতা আছে। সরকারের সফলতার পাল্লাটা খুব হালকা। বরং ব্যর্থতার পাল্লা এত ভারী যে এই সফলতার পাল্লা দেখতে উপরের দিকে তাকিয়ে থাকা লাগে।

প্রশ্ন: সরকারের বড় ব্যর্থতা কী বলে মনে করেন?

সোলায়মান চৌধুরী: সরকারের সবচাইতে বড় ব্যর্থতা আমি বলব দলীয়করণ। সবকিছু নিজের দলের লোকজন দিয়ে করানো এবং সমালোচনা গ্রহণ না করার মনোভাব। আমার নিজের ত্রুটি বিচ্যুতি তো আমি নিজে দেখি না, অন্যে দেখে। অন্যে যদি আমার ত্রুটি বিচ্যুতি ধরিয়ে দেয় তাহলে তো আমার ওই ব্যক্তিকে সাধুবাদ জানানোর কথা। এই সরকারের মধ্যে তাদের নিজেদের ত্রুটি ধরিয়ে দেওয়া তারা সহ্য করতে পারেন এমনটি দেখা যায় না।

প্রশ্ন: অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রতি আপনার কোনো বার্তা আছে কি?

সোলায়মান চৌধুরী: সকলের কাছে বার্তা একই। আসুন, আমরা এদেশের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের কল্যাণ সাধন করি। বাংলাদেশকে একটি কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করি, মানুষের অধিকার মানুষকে ফিরিয়ে দিই।

প্রশ্ন: এবি পার্টিতে যারা যুক্ত হয়েছেন তারা দেশ পরিচালনায় কতটুকু সক্ষম হবেন বলে আপনার মনে হয়?

সোলায়মান চৌধুরী: এটা হলো একটা তুলনামূলক বিষয়। সক্ষমতার কথা যেটি বললেন। কেউ কিন্তু মায়ের পেট থেকে সবকিছু শিখে আসে না। মানুষ দায়িত্ব পেলে সবকিছু শেখে। আমাদের দলের লোকজনদের কোনোকিছু শেখার মানসিকতা পুরোপুরি আছে। তারা উন্মুখ হয়ে আছেন যে তারা শিখবেন। আমরাও নিজেদের দলের ভিতর সরকার পরিচালনার বিষয়ে, রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয়ে, সমাজ পরিচালনার বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রেখেছি। আমরা প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদেরকে নিজেরাও তৈরি করব যাতে তারা দেশ পরিচালনায় দক্ষ হয়ে ওঠে।

প্রশ্ন: বিভিন্ন ধর্মমতের মানুষকে আপনারা দলে কীভাবে সম্পৃক্ত করবেন?

সোলায়মান চৌধুরী: কোনো অসুবিধা তো নেই। যে কেউ আমাদের দলের চেয়ারপারসন হতে পারে এই সুযোগ রয়েছে। অতএব আমি সকলকে আহবান জানাব আপনারা এই দলে আসুন। এই দলের কর্মসূচি অতীব সাধারণ। আপনাদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে আসুন অমরা ঐক্যবদ্ধ হই।

প্রশ্ন: দলের যোগ্য নেতৃত্ব তৈরিতে আপনার সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপটি কী?

সোলায়মান চৌধুরী: আমি একটু আগে আপনাকে বলেছি, আমাদের এখানে একটা সাধারণ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আছে। এটা কোনো ক্যাডার নয়, মনে রাখবেন। ক্যাডার প্রশিক্ষণ নয়। এইটা হলো আমরা আমাদের দলের নেতৃবৃন্দকে, দলের সাধারণ কর্মীকে আমরা যোগ্য অভিজ্ঞ করে তুলব, তাদেরকে আরও উন্নত শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলব। এইজন্য আমাদের এখানে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আছে। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমরা তাদেরকে তৈরি করে নেব রাষ্ট্রপরিচালনার জন্য।

প্রশ্ন: করোনা পরিস্থিতিতে আপনার দলের ভূমিকা কী ছিল?

সোলায়মান চৌধুরী: করোনা পরিস্থিতিতে প্রথমেই তো আমরা একেবারেই সরকার যেদিন ছুটির ঘোষণা করে ছুটির আগে আমরা দুই দিন সময় পেয়েছিলাম। ওই দুই দিনেই আমরা সামান্য কিছু টাকা যোগাড় করে দোকান থেকে খাদ্য কিনে গরিব অসহায় মানুষ যারা দিন আনে দিন খায়, যাদের ঘরে ভাত নাই, ভাতের চাল নাই তাদেরকে খাদ্য দেওয়া কর্মসূচি গ্রহণ করি এবং বাংলাদেশের প্রায় আশিটি কেন্দ্রে আমাদের খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি চলমান আছে। এছাড়া করোনা ভাইরাসের বিষয়ে মানুষকে সচেতন করার কার্যক্রমও সমানতালে চলছে। আমরা ডাক্তারদের পর্যন্ত পিপিই সরবরাহ করেছি। বিভিন্ন হাসপাতালে বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী পর্যন্ত আমরা সরবরাহ করেছি। এই ক্ষুদ্র একটি দল, যে দলটি জন্ম নিলো আজকে ষষ্ঠদিন।

প্রশ্ন: জনাব সোলায়মান চৌধুরী, আপনি আমাদের নিউজ বাংলা টুয়েন্টিফোর ডট কম ডট বিডিকে সময় দিলেন এজন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
সোলায়মান চৌধুরী: আপনাদেরকেও আমরা ধন্যবাদ জানাচ্ছি আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনার জন্য। আমাকে প্রশ্ন করে আমার কাছ থেকে কথাগুলিকে বের করে নেওয়ার জন্যও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ সংবাদ

করোনায় সাবেক এমপি শামসুল হকের মৃত্যু

নিউজবাংলা ডেস্ক: টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য শামসুল হক তালুকদার ছানু (৭৫) করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। গতকাল...

কাশবনে তরুণীকে যৌন নিপীড়ন : যুবক গ্রেফতার

নিউজবাংলা ডেস্ক: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরে কাশবনে ঘুরতে যাওয়া এক তরুণীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় জুনায়েদ (২৪) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে...

আসামিদের পক্ষে দাঁড়াননি কোনো আইনজীবী

নিউজবাংলা ডেস্ক: সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে গৃহবধূকে গণধর্ষণের মামলায় গ্রেফতার তিন আসামির পক্ষে আদালতে দাঁড়াননি কোনো আইনজীবী। সোমবার...

ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ : ৫ দিনের রিমান্ডে রবিউল

নিউজবাংলা ডেস্ক: সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি কলেজ শাখা মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের...

ডনাল্ড ট্রাম্প দুই বছরে আয়কর দিয়েছেন ৭৫০ ডলার করে

নিউজবাংলা ডেস্ক: সংবাদপত্রটি জানিয়েছে, ট্রাম্প ও তার কোম্পানিগুলোর দুই দশকেরও বেশি সময়ের আয়করের রেকর্ড তাদের হাতে এসেছে। ট্রাম্প গত ১৫ বছরের...

করোনায় মৃত্যু দশ লাখ ছাড়াল

নিউজবাংলা ডেস্ক: প্রাণঘাতী ভাইরাস করোনার ভয়াবহতা থামছেই না। সারা বিশ্বে এখনো প্রতিনিয়ত তাণ্ডব চালাচ্ছে অচেনা ভাইরাসটি। এরই মধ্যে বিশ্বব্যাপী করোনায়...

Must read

করোনায় সাবেক এমপি শামসুল হকের মৃত্যু

নিউজবাংলা ডেস্ক: টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য...

কাশবনে তরুণীকে যৌন নিপীড়ন : যুবক গ্রেফতার

নিউজবাংলা ডেস্ক: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরে কাশবনে ঘুরতে যাওয়া এক তরুণীকে...

আপনার পছন্দের সংবাদRELATED
Recommended to you