রাজনীতি ক্যাসিনো রাজা খালেদের উত্থান যেভাবে

ক্যাসিনো রাজা খালেদের উত্থান যেভাবে

-

নিউজবাংলা :

এলাকায় তিনি বড় ভাই নামেই পরিচিত। বাবা ছিলেন রেলওয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী। গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা হলেও বাবার চাকরির সুবাদে বেড়ে উঠেছেন শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনিতে। একসময় জড়িয়ে পড়েন নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে। ভারতে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী জাফর আহমেদ মানিকের নির্দেশে খিলগাঁও, শাহজাহানপুর, কমলাপুর এলাকার বাজার ও বিভিন্ন স্থাপনা থেকে চাঁদা উঠাতেন। মানিককে ধরিয়ে দেবার জন্য সরকার পুরষ্কার ঘোষণা করার পর পালিয়ে ভারতে চলে যায়। ভারতে বসেই সে এলাকার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করত। খালেদ চাঁদাবাজি করে টাকা তুলে সেই টাকার একটি অংশ ভারতে মানিকের কাছে পাঠিয়ে দিতেন। সরকার পরিবর্তনের পর রং পাল্টান খালেদ। আওয়ামী লীগ ক্ষমতার আসার পর যুবলীগ নেতাদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলেন। ২০১৩ সালে তিনি অনেক নেতাকর্মী নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যুবলীগে যোগ দেন। যুবলীগের মহানগর কাউন্সিলে তিনি সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ পেয়ে যান। আলোচনা আছে পদটি পেতে তিনি বড় অংকের অর্থ ব্যয় করেন। ২০১৪ সালে যুবলীগ নেতা মিল্কি হত্যাকাণ্ডের পর ক্রসফায়ারে নিহত হন ঘাতক আরেক নেতা তারেক। এর পর যুবলীগের প্রভাবশালী এক নেতার ছত্রছায়ায় খালেদ শক্তিশালী হতে থাকেন। ক্ষমতার অপ্রব্যবহার করে ছোট বড় অনেক নেতাকে শহর ছাড়া করতে শুরু করেন। তার ভয়ে দেশ ছেড়েছেন কেউ কেউ। বুধবার রাতে ক্যাসিনো রাজা বলে খ্যাত খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়ার গ্রেপ্তারের পর তাকে নিয়ে আলোচনা এখন দেশজুড়ে। যেই রেল কলোনীতে তার বেড়ে উঠা সেখানেও তাকে নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। মতিঝিল, শাহজাহানপুর, খিলগাঁও এলাকার ত্রাস এই নেতার বিষয়ে এখন সবাই কথা বলছেন প্রকাশ্যে। ওইসব এলাকায় দখল, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ নানা অপকর্ম হতো তার নেতৃত্বে। অস্ত্র ও দেহরক্ষী নিয়ে তিনি চলাফেরা করতেন। গতকাল পুরো এলাকা ঘুরে তার সম্পর্কে পাওয়া গেছে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, জাফর আহমেদ খোকনের সঙ্গে এক সময় যোগাযোগ বন্ধ করে দেন খালেদ। পরে তিনি খিলগাঁও এলাকার আরেক পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে  তুলে। জিসানের সহযোগীতা নিয়ে তিনি চাঁদাবাজির পাশাপাশি টেন্ডারবাজিতে নাম লেখান। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) থেকে শুরু করে রেলভবন, গণপূর্ত, ক্রীড়া পরিষদ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, যুব ভবন, কৃষি ভবন, ওয়াসার বিভিন্ন জোনের টেন্ডারের নিয়ন্ত্রণ নেয় তারা। সেখানকার টাকার ভাগ চলে যেত জিসানের কাছে। কিছুদিন পর জিসানের সঙ্গে টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে দ্বন্ধ সৃষ্টি হয় খালেদের। তারপর জিসানের কাছ থেকেও সরে আসেন খালেদ। জিসানের ক্যাডার বাহিনীকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে ধরিয়ে দেন। এককভাবে সব কিছুর নিয়ন্ত্রণ নেন খালেদ। এরপর থেকে জিসান-খালেদ দ্বন্ধ চরম আকার ধারন করে। খালেদের ওপর ক্ষোভ বাড়তে থাকে জিসানের। খালেদ তখন থেকে বিশাল ক্যাডার বাহিনীর প্রটোকল নিয়ে চলাফেরা করেন। তার সঙ্গে অস্ত্রধারী কিছু ক্যাডার থাকেন। গোয়েন্দাসূত্রগুলো বলছে, টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিতে বিদেশে বসে জিসান খালেদকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
গত জুলাই মাসে গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম ঢাকার খিলগাঁর সিপাহীবাগ এলাকা থেকে ফয়সাল নামের এক সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে সঙ্গে নিয়ে ওই এলাকার ফাইভ স্টার নিবাসের আট তলায় অভিযান চালিয়ে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। এসময় তাদের কাছ থেকে একটি একে-২২ রাইফেল, চারটি বিদেশী অস্ত্র ও ১টি রিভলবার উদ্ধার করে। গোয়েন্দা পুলিশ তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারে তারা সবাই শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের ক্যাডার বাহিনী। যুবলীগের এক শীর্ষ নেতাকে হত্যার উদ্দেশ্য জিসানই এই অস্ত্রগুলো তাদেরকে সরবরাহ করেছে। ওই নেতার সঙ্গে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি নিয়ে দ্বন্ধ চলছে জিসানের। এদিকে খালেদ জিসানের কাছ থেকে দুরে সরে এসে সখ্যতা গড়ে তুলেন থাইল্যান্ডে থাকা আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসীর সঙ্গে। তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ থাকায় দুজনে মিলে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেন। সূত্র বলছে, তারা দুজনে মিলে ব্যাংককে একটি টু স্টার মানের হোটেল করেছেন। এছাড়া ফ্ল্যাট ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন। কুয়ালালামপুরে অভিজাত সুপারমল প্যাভিলিয়নে এগার কোটি টাকা দিয়ে অ্যাপার্টমেন্ট কিনেছেন। স্কটল্যান্ডে বাড়ি কিনেছেন। অনুসন্ধানে জানাগেছে, রাজধানীর খিলগাঁও, শাহজাহানপুর, কমলাপুর, মতিঝিল, ফকিরাপুল, পল্টন, মেরাদিয়া, বনশ্রী, রামপুরা, মুগদা এলাকার সবকিছুই খালেদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এসব এলাকায় কোন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তই খালেদ ছাড়া কেউ নিতে পারত না। সবকিছুতেই তার হস্তক্ষেপ থাকত। একাধিক সূত্র নিশ্চিত করে বলেছে, এসব এলাকায় খোদ আওয়ামী লীগের নেতাদের আধিপত্য বিস্তার করার সুযোগ ছিল না।
এছাড়া ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, শ্রমিকলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ ছিল তার হাতে। সবার কাছে খালেদ বড় ভাই নামে পরিচিত। সিটি কর্পোরেশনের কাঁচা বাজার থেকে শুরু করে অবৈধভাবে মাছের বাজার, ফুটপাতে হকার বসিয়ে চাঁদাবাজি। রেলওয়ের জমি দখল করে ৯০টি দোকান নির্মান, খিলগাঁও কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি সবই খালেদ নিয়ন্ত্রণ করতেন। তবে চাঁদা তোলার কাজ তিনি নিজে করতেন না। করতেন তার অধীনস্থ নেতাকর্মীরাই। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের টিকেট কালোবাজারিতে খালেদের হাত আছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্টেশনের সামনে সিটি করপোরেশনের একটি পাবলিক টয়লেট দখল করে তিনি বাস কাউন্টার বানিয়ে শ্যামলী পরিবহণের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। খিলগাঁও বাজারের পেছনে মুক্তিযোদ্ধা চিত্ত বিনোদন ক্লাবে জুয়ার আসর বসাতেন। এই ক্লাবেরও হর্তাকর্তা তিনি। এলাকায় কেউ ভবন নির্মাণ করতে চাইলে তাকে আগে খুশি করতে হত। তা না হলে ভবন নির্মাণে বাধা প্রদান করত খালেদের ক্যাডার বাহিনী। মতিঝিল, ফকিরাপুল, গুলিস্তান, হলিডে মার্কেটের হকারদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি, ছোট-বড় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে তার লোকজন। কেউ চাঁদা দিতে অপারগতা জানালে কমলাপুর রেলস্টেশনের উল্টোপাশে ইস্টার্ন কমলাপুর টাওয়ারের টর্চার সেলে তাকে নিয়ে যেতেন। সেখানে ওই ব্যক্তির উপর চলত নির্যাতন। বুধবার র‌্যাবের একটি অভিযানিক টিম খালেদের টর্চার সেলে অভিযান চালিয়েছে।
র‌্যাব সূত্র জানিয়েছে, খালেদ মাহমুদ ভূইয়াকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অনেক গোপন তথ্য দিয়েছেন। খালেদ ও যুবলীগের আরেক শীর্ষ নেতা মিলেই ক্যাসিনোর রমরমা বাণিজ্য করতেন। অন্তত ১৭টি ক্যাসিনো তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এসব ক্যাসিনোয় প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা বাণিজ্য হত। এসব টাকার ভাগ তারা পুলিশ থেকে শুরু করে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, ওয়ার্ড কমিশনার, কথিত সাংবাদিক ও আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের দিতেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট জোনের ডিসি, এসিরা পেতেন। এমনকি ক্যাসিনো চালানোর বিষয়টি ডিএমপি পুলিশ সদরদপ্তরের কিছু কর্মকর্তা জানতেন বলে দাবি করেছেন খালেদ। ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতে নেতাদের মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে গাড়ি পর্যন্ত উপহার দিতে হয়। র‌্যাবসূত্র বলছে, ক্যাসিনো ক্লাবগুলোতে চেয়ারম্যান হিসাবে একজন সংসদ সদস্যকে সামনে রাখা হয়। যদিও ক্লাবে তাদের আনাগোনা তেমন একটা থাকে না। মতিঝিল, পল্টন ও ফকিরাপুল এলাকায় গড়ে উঠা অধিংকাশ ক্লাব একজন কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা খালেদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দুটি ক্লাব নিয়ন্ত্রণ করেন ওই কাউন্সিলর। বাকিগুলো খালেদই করেন। আবার এই দুজনকে নিয়ন্ত্রণ করেন দক্ষিণ যুবলীগের আরেক প্রভাবশালী নেতা। সরজমিন বুধবার শাহজাহানপুর রেল কলোনি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কয়েক শতাধিক অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। অবৈধভাবে গড়ে তোলা এসব স্থাপনার নিয়ন্ত্রণ ছিল যুবলীগ নেতা খালেদের হাতে। এসব স্থাপনা ভাড়া দিয়ে তিনি প্রতি মাসে হাতিয়ে নিতেন অর্ধশত কোটি টাকা। এছাড়া রেলওয়ের স্টাফদের জন্য বরাদ্দকৃত পাকা ভবনের দখলও এই নেতা করতেন। সূত্রে জানা গেছে, রেলওয়ে স্টাফদের কাছ থেকে এককালীন টাকায় এসব কোয়ার্টার কিনে নেয়া হয়েছে। এখন বহিরাগতদের কাছে ভাড়া দেয়া হয়েছে। খিলগাঁও কাঁচাবাজার মার্কেটের পাশে রেলওয়ের জমি দখল করে ৯০টি দোকান কোঠা  তৈরি করেছেন। এসব দোকান থেকে বরাদ্ধের নামে টাকা নিয়েছেন। এসব দোকানের ব্যবসায়ীরা এখন বিপাকে পড়েছেন।
কারন রেলওয়ে এই অবৈধ মার্কেট ভেঙ্গে দিবে। তাই ব্যবসায়ীরা তাদের অগ্রিম টাকা না পাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন। সুচনা ডেকোরেটার্সের মালিক কাওসার বলেন, খুব বিপদে আছি। এসব জুলুমবাজদের কাছ থেকে সৃষ্টিকর্তা রক্ষা করুক। পুরো এলাকাটাকে জিম্মি করে রেখেছিল। সব কিছুই তিনি নিয়ন্ত্রণ করতেন। এই এলাকায় আওয়ামী লীগের কোনো অস্তিত্ব নেই। সবই একজন। তার ওপরে কথা বলার কেউ নেই। এখানে রেলওয়ের কর্মচারিদের জন্য তিনটি ক্লাব ছিল। প্রত্যেকটি ক্লাব খালেদ ও তার ক্যাডার বাহিনীরা দখল করেছে। রেলওয়েরে কর্মচারিদের ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছে। এই ক্যাডার বাহিনীর অত্যাচারে সবাই অতিষ্ঠ। আমি ডেকোরেটার্সের ব্যবসা করি। কোনো অনুষ্ঠানে তারা মালামাল নিয়ে ব্যবহার করে টাকা দিতে চায় না।
চার ক্যাসিনো সিলগালা: র‌্যাব জানিয়েছে বুধবার তারা ঢাকার চারটি ক্যাসিনোতে অভিযান চালিয়েছে। এসব ক্যাসিনোয় অভিযান চালিয়ে নগদ টাকা, ডলাল, বিদেশী মদ, নেশাজাতীয় দ্রব্য, ক্যাসিনো পরিচালনার সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়েছে। ফকিরাপুলের ইয়াংমেনস ক্লাবে অভিযান চালিয়ে ২৪ লাখ ২৯ হাজার টাকাসহ ১৪২ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেয় র‌্যাবের ভ্রাম্যমান আদালত। বনানীর আহম্মেদ টাওয়ারে অবস্থিত গোল্ডর ঢাকা বাংলাদেশ ক্যাসিনোতে অভিযান চালিয়ে কাউকে না পেয়ে সেটি সিলগালা করে দেয় র‌্যাব। মতিঝিলের ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লবে অভিযান চালিয়ে ১০ লাখ ২৭৮ হাজার টাকা, ২০ হাজার ৫০০ জাল টাকাসহ ক্যাসিনোটি গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। গুলিস্তানের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্লাবে ৪ রাখ ৯৮ হাজার ৬০০ টাকাসহ ক্যাসিনো পরিচালনা ও খেলার অভিযোগে ৪০ জনকে আটক করা হয়।
খালেদের বিরুদ্ধে তিন মামলা: এদিকে  র‌্যাব  খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে গুলশান থানায় হস্তান্তর করে তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করেছে। অস্ত্র, মাদক ও মানিলন্ডারিং আইনে এ মামলাগুলো করা হয়। এসব মামলায় সাত দিন করে ১৪ দিনের রিমান্ড চেয়ে  খালেদকে আদালতে হাজির করেছেন গুলশান থানার পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম। আদালত শুনানি শেষে অস্ত্র ও মাদক মামলায় ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এছাড়া মাদক আইনে মতিঝিল থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর আগে বুধবার রাতে ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগে গুলশানের বাসা থেকে যুবলীগ দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে অস্ত্রসহ আটক করে র‌্যাব। গ্রেপ্তারের সময় তার বাসা থেকে একটি শর্টগান, দুটি পিস্তল, শর্টগানের ৫৭ রাউন্ড গুলি ও ৭.৬৫ এএম এর ৫৩ রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়। এছাড়া ৫৮৫ পিস ইয়াবা, ১০ লাখের বেশি নগদ টাকা ও সাত লাখের মত বিভিন্ন দেশের মুদ্রা জব্দ করা হয়।

সূত্র : মানব জমিন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ সংবাদ

কভিড-১৯, শিক্ষাঙ্গন ও শিক্ষকতা

ড. এ. কে. এনামুল হক বহুদিন ঘর থেকে বের হইনি। ভাবলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে দেখি কেমন আছে আমাদের ক্যাম্পাস। যখন পৌঁছলাম তখন বেলা ১টা হবে। পরিচিত কোনো কোলাহল নেই। শিক্ষার্থীবিহীন ক্যাম্পাস দেখতে ভুতুড়েই মনে হলো। ডিপার্টমেন্টে গিয়ে দেখতে পেলাম অফিসের লোকজন এসেছে। তারা পালাক্রমে আসে। যেন একসঙ্গে ভিড় না হয়। দূরত্ব বজায় থাকে। তারাই জানাল মাঝে মাঝে শিক্ষকরাও আসেন। যে যার মতো। কাজ করে চলে যান। বুঝতে পারলাম ক্যাম্পাসের মায়া না থাকলে শিক্ষক হওয়া যায় না। তাই সবাই কোনো না কোনো ছুতায় মাঝে মাঝেই আসেন। আমরা চারজন একটি বই লিখছি। প্রায় এক বছর হলো। চারজন চার দেশে থাকি। একজন থাকেন ওহাইওতে। সেখানে এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। অন্যজন গোয়ায়। ভারতের গোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। অন্যজন নেপালে। হঠাৎ করেই স্প্রিংজার নেচার বইটি প্রকাশ করতে চুক্তিবদ্ধ হওয়ায় আমরা প্রতি সপ্তাহে অন্তত ঘণ্টাখানেক সময় জুম দিয়ে কথা বলি। তাই ভাবলাম, তারাও কি ক্যাম্পাসে যায়? জিজ্ঞেস করি। ওহাইওর অবারলিনের বন্ধুটিকে জিজ্ঞেস করলাম। ক্যাম্পাসে যাও? জানাল, সেও যায়। মাঝে মাঝেই। অবারলিন একটি ছোট শহর। তাই সেখানে খুব একটা লোকসমাগম নেই। ক্যাম্পাস বন্ধ। আমাদের মতোই তারাও অনলাইন ক্লাস করে। জুম অ্যাপটি ব্যবহার করে। ছাত্রছাত্রীরা ক্যাম্পাসে নেই। জানাল যে ক্যাম্পাসে তারা কারো সঙ্গে দেখা হলে দূর থেকেই হাত তোলে স্বাগত জানায়। ধারেকাছে কেউ ঘেঁষে না। কথা বলতে হলে ফোনে কথা বলে। যদিও তার সহকর্মীটি হয়তোবা পাশের কক্ষেই বসে আছে। ক্যাম্পাস খোলার কি লক্ষণ আছে? জানাল ছাত্রছাত্রীদের ভিসা সমস্যা সমাধানের জন্য তারা ক্যাম্পাসে ক্লাসের ব্যবস্থা নিচ্ছে। নচেৎ অনেকেরই যুক্তরাষ্ট্রে থাকার ভিসা রইবে না। কীভাবে করবে? প্রথমত, আমরা প্রত্যেক শিক্ষক, কর্মচারীদের প্রতি দুদিন অন্তর করে কভিড টেস্ট করাচ্ছি। দেখছি ক্যাম্পাসে কভিড রোগী রয়েছে কিনা। আমাদের পলিসি হলো, ক্যাম্পাসে কভিড পজিটিভ শূন্য হলে তবেই ক্যাম্পাস খুলবে। এখন পর্যন্ত তা হয়নি। সর্বশেষ দুজনকে পাওয়া গেছে। তবে ক্যাম্পাসে নতুন প্রোটোকল ঘোষণা হয়েছে। কী রকম? ক্যাম্পাসে আসা না-আসাটা ছাত্রদের নিজস্ব ব্যাপার। কারণ তাদের কভিড হলে বিপদ। দ্বিতীয়ত, বিভাগভেদে সপ্তাহে অন্তত একটি ক্লাস ক্যাম্পাসে নেয়ার চেষ্টা হবে। তাও হবে সীমিতসংখ্যক ছাত্রের উপস্থিতিতে। কারণ শিক্ষার্থীরা একত্রে হলেই জটলা করবে। তখন সারা ক্যাম্পাসে তা ছড়িয়ে পড়তে পারে। এটাই বিপদ। আবার যারা হোস্টেলে থাকবে তাদের প্রত্যেককে আলাদা রুমে রাখার চেষ্টা চলছে। ভাগাভাগি করে থাকার ব্যবস্থা থাকছে না। ভাগাভাগি বলতে বাথরুম, কিচেন ভাগাভাগি বোঝাচ্ছে। অতঃপর? আমরা চেষ্টা করছি কিন্তু সবাই চিন্তিত। কারণ হোস্টেলে কেউ অসুস্থ হলে কী করে আলাদা রাখা হবে? কী করে চিকিৎসার ব্যবস্থা হবে? এসব প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। ভারতের বন্ধুটিকে জিজ্ঞেস করলাম, তোমাদের কী অবস্থা? আমাদের প্রথমে কোনো চিন্তা ছিল না। আমরা ক্যাম্পাসে যেতাম। তবে ক্লাস চলত অনলাইনে। আমরা ব্যবহার করি গুগুলের মিট অ্যাপটি। তবে এতদিন আমরা প্রতিদিনই অফিসে যেতাম। তবে এখন অবস্থা খারাপ। বাসায়ই রয়েছি। নেপালের কী অবস্থা? আমরা তো রয়েছি কারফিউর মাঝে। মানে? মানে সকাল ৫টা থেকে ১০টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা, তবে হাঁটাপথ ছাড়া কেউ বের হতে পারছে না। বাকি সময় কারফিউ। সবকিছু চলছে বাড়ি থেকে। বুঝতেই পারছেন সারা পৃথিবীতে অবস্থা নিয়ন্ত্রণহীন। কী করা যায়, তা নিয়ে যতই অংক কষি না কেন, কী করা যায় তা নিয়ে সবাই চিন্তিত। এরই মাঝে আমার এক ভাগনি জানাল, তাদের স্কুল ক্লাস নাইনের ছাত্রদের ডেকেছে। কী কারণ? ক্লাস নাইনে বোর্ডের রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। বোর্ডের ফরম পূরণ করতে হবে। কী কাণ্ড! বোর্ড কি অনলাইনে ফরম দিতে পারেনি? কী জানি, তবে স্কুল জানিয়েছে যেতে। ক্লাস নাইনের ছাত্ররা যাবে। আচ্ছা! কিছুটা অবাক, কিছুটা চিন্তিত সবাই। কিন্তু কী করা যায়। হেডমাস্টার মনে করেন তার ছাত্রদের ফরম স্বহস্তে পূরণ করতে হলে স্কুলেই যেতে হবে। সবাই কি ঢাকায় আছে? না তা নয়। তবে? যারা ঢাকার বাইরে রয়েছে, তারাও আসবে ফরম পূরণ করতে। কয়েক দিন বাদে খবর পাওয়া গেল, ফরম পূরণ করতে মোট দুদিন যেতে হয়েছে স্কুলে। এই দুদিন তারা প্রচুর আনন্দ করেছে। বহুদিন পর বন্ধুদের পেয়েছে। তবে তার এখন জ্বর! কী বলো? মা-বাবার মাথায় বাড়ি! বাবার অফিস বন্ধ। মায়ের অবস্থা বুঝতেই পারছেন। একঘরে মেয়েকে কী করে আলাদা রাখা যায়? বাথরুমও আলাদা করতে হবে। এদিকে বাবার অফিসে প্রচুর কাজ। কিন্তু তাকেও থাকতে হবে আইসোলেশনে! কভিড টেস্ট করিয়েছ? না করাইনি, তবে হয়েছে। কী করে বুঝলে? জানাল ওর পাঁচ বান্ধবী দুদিন একসঙ্গেই ছিল। একজন এসেছে খুলনা থেকে। সে খুলনা যাওয়ার পথে বাসেই তার জ্বর এসেছে। পরীক্ষায় কভিড ধরা পড়েছে। অন্য আরো দুজনও জ্বরে ভুগছে। তারা পরীক্ষা করিয়েছে। তাদেরও নাকি কভিড পজিটিভ। বাকি রয়েছিল আমার ভাগনি ও অন্য একজন। ওরও জ্বর। সব লক্ষণই রয়েছে। তাই কভিড নয়তো কী? বললাম, পরীক্ষা করিয়ে নাও। বাসায় এসেও পরীক্ষা করা যায়। কী হবে পরীক্ষা করে। রোগ তো বোঝাই যাচ্ছে। তবুও! কয়েক দিন পর জানা গেল মায়েরও জ্বর। কী করা! রিলিফ অপারেশনে নামতে হচ্ছে। বুঝতেই পারছেন। একজনের অসুস্থতা আমাদের সমাজে কতজনকে ব্যস্ত করে তোলে! বললাম, তোমাদের বাসার পাশেই তো হাসপাতাল। যাও পরীক্ষা করাও। সম্ভব নয়! কী কারণ? ওখানে গেলে কভিড না হলেও লাইনে দাঁড়িয়েই নাকি কভিড হবে! আচ্ছা, তবে বাসায়ই করিয়ে নাও। বাসায় করোনা পরীক্ষার ফি শুনে আক্কেলগুড়ুম। প্রতিজনের জন্য ৪ হাজার ৫০০ টাকা। বাসায় চারজনের জন্য গুনতে হবে ১৮ হাজার টাকা! তার চেয়ে বুঝে-শুনে ওষুধ খাই! বোনের সঙ্গে কথা বললাম। আমি তো ওষুধ খাওয়া শুরু করে ফেলেছি! টেস্ট না করেই? শোনো, যত তাড়াতাড়ি ওষুধ ধরবে ততই ভালো। নচেৎ হাসপাতালে যেতে হবে শ্বাসকষ্ট শুরু হলে। তখন বাঁচার সম্ভাবনাই নেই। কী ওষুধ? আমার কাছে লিস্ট করা আছে। ঘটনাটা বলছি কারণ অপরিণামদর্শী শিক্ষা বোর্ড কিংবা প্রধান শিক্ষককে কী বলা যায় বলুন? আমাদের দেশে একজন অসুস্থ হলে কত জনের সাহায্য প্রয়োজন ভেবেছেন কি? এই তুলনায় শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দেয়া যায়। তাদের জ্ঞান বোর্ডের হর্তাকর্তাদের চেয়ে বেশি। তারা দুজনই বলেছেন, ছাত্রছাত্রীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি হয় এমন কাজ আমরা করব না। সবকিছু না বুঝে আমরা শিক্ষাঙ্গন খুলছি না। কিন্তু স্কুলটির প্রধানশিক্ষক বা ঢাকা বোর্ডের জ্ঞানে তা ধরেনি! তাই দেখবেন এসব সরকারি কর্মচারীর চেয়ে আমাদের রাজনীতিকরা অনেক বেশি সংবেদনশীল। অনেক বেশি জনদরদি। এর মধ্যেই বরিস জনসন সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করলেন, লন্ডনে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় খুলেছিল কিন্তু শিক্ষার্থীরা দূরত্ব পালন করেনি। রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। তাদের আবার বাড়তি চিন্তা। শিক্ষার্থীরা হোস্টেল থেকে বাসায় গেলে বাসায় তা ছড়াবে। তাই তার অনুরোধ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেন চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। বুঝতেই পারছেন। অবস্থা কেমন। তিনি শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করলেন, বাবারা মাস্ক পরো আর দূরত্ব বজায় রাখো। আমার মনে পড়ে গেল ভাগনিটির কথা। অসম্ভব ব্যাপার। শিশু-কিশোরদের দূরত্ব বজায় রাখার চিন্তা কি সম্ভব? কথা হচ্ছিল ব্যাংককের এআইটির এক অধ্যাপকের সঙ্গে। তিনি জানালেন, থাইল্যান্ড করোনাকে সামলে নিয়েছে। সেখানে রোগের প্রাদুর্ভাব কমেছে। সেখানে দিনে ১০ জনের নিচে রোগী ধরা পড়ছে গত মে মাস থেকে। তাই তারা খুলছে। তবে তাদের ইনস্টিটউটে বিদেশী ছাত্ররা এখনো অনলাইনে ক্লাস করছে। থাই ছাত্ররা ক্লাসরুমে  আসছে। তবে ইনস্টিটিউট ক্যাম্পাসে তৈরি করেছে পৃথক আবাসস্থল। যেখানে করোনা রোগী ধরা পড়লে থাকবে। সবই করতে হয়েছে তাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে। আমার সহধর্মিণীও শিক্ষক। তিনিও নিয়মিত জুমে ক্লাস নিচ্ছেন। তার ছাত্রদের বয়স চার-পাঁচ বছর হবে। বললাম, কী করে তোমরা অনলাইনে পড়াও? ওরা কি জানে কী করে কলম ধরতে হবে? ওদেরকে কলম ধরানোও শেখাতে হয়। হুম। সহজ না। কিন্তু মায়েরা পাশেই থাকে। তাদের সাহায্য করতে হয়। বুঝলাম কিন্তু যে মায়ের দুটি সন্তান দুটি ক্লাসে পড়ে? কিংবা যে বাসায় তিনটি ছাত্র, একসঙ্গে ক্লাসে অনলাইনে বসে কী করে? উত্তর নেই। কিংবা যদি মা-বাবা শিক্ষিত নন, তাদের অবস্থা কী? আমরা চেষ্টা করি বুঝিয়ে দিতে। আর কী করা যাবে। তবে মায়েরা বহু কষ্ট করছে। তারাও পড়ছে। সন্তানদের সঙ্গে। তবে আমরা চেষ্টা করি ক্লাসের সময় কমিয়ে দিতে। কারণ মোবাইল সবার নেই। সবাই একসঙ্গে পড়তে গেলে নীরব কক্ষ ঘরে থাকবে না। আবার সবাই ভিডিও ক্লাস করতে না-ও চাইতে পারে। কারণ বাসার অবস্থা বাকি সবাইকে জানান দেয়ার ইচ্ছা অনেকের নেই। বুঝতেই পারছেন। সারা বিশ্বে শিক্ষা ব্যবস্থা পার করছে একটি কঠিন সময়। এর মধ্যে দেখলাম আমাদের কোনো কোনো সহকর্মী অনলাইন পরীক্ষায় নকল নিয়ে অত্যন্ত চিন্তিত। ছাত্রছাত্রীদের ক্যামেরা খুলে রাখতে বলছেন। অনেকেই তা করতে চায় না। অনেকেই বাসায় আত্মীয়পরিজন নিয়ে বাস করে। সবাই কাজে ব্যস্ত। এ সময় ক্যামেরা অন করে ক্লাস করা বাধ্যতামূলক করাকে অনেকেই পছন্দ করে না। কারণ সবাই হয়তো ক্যামেরায় চেহারা দেখানোর অবস্থায় থাকে না। এক সহকর্মী তো বলেই বসলেন, কেন ওরা ক্যামেরা খুলে রাখতে পারবে না? কেন জিআরই পরীক্ষার সময় তো পারে! কী বলা যায় তাকে? আমাদের সব শিক্ষক শিক্ষকের যোগ্যতা যে রাখেন না, সব প্রধান শিক্ষক যে প্রধান শিক্ষকের উপযুক্ত নন, তারই প্রমাণ এসব ঘটনা। শিক্ষকতা কোনো চাকরি নয়, এটা যে একটি ব্রত, তা অনেকেই না বুঝে চাকরি করতে এসেছেন। তাদের নিয়েই যত বিপদ। মুদ্রার ওপিঠ রয়েছে। আমার এক ছাত্রী। তার তিন বছরের ছেলেকে নিয়ে বিপদে রয়েছে বলে জানাল। বলল, বয়স তিন তাই ওর সমবয়সীদের সঙ্গে না মিশলে হচ্ছে না। বাসায় থেকে যন্ত্রণা করছে। ছটফট করছে ঘরে বসে। কী করা যায় বুঝতে পারছি না। বললাম স্কুলে দিলেও বিপদ হতে পারে। শিশুদের অধিকাংশেরই কভিড উপসর্গ কম দেখা যায়। তারা সহজে কাশতেও পারে না। তাই তাদের কভিড হলে বিপদ বেশি। তাই সাবধান থাকতে হবে। স্কুল খুলে গেলে দেখবে এক শিশু তা ছড়াচ্ছে অন্য শিশুকে আর তা থেকে ছড়াবে বাসায় বাসায়। বাংলাদেশ উন্নত বিশ্ব নয় যে শিশুকে হাসপাতালে রেখে মা-বাবারা কাজে যেতে পারবেন। তখন শিশুসহ পরিবারের সবাই হয় অসুস্থ হবে নচেৎ চিকিৎসা-পরিচর্যায় ব্যস্ত হবে। কী পরিমাণ বিপদ হতে পারে তা কল্পনাও করা যায় না। মোদ্দাকথা, করোনায় সবচেয়ে বেশি বিপর্যয় হবে শিক্ষাঙ্গনে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায়। সব ক্ষেত্রে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা যেমন প্রয়োজন, তেমনি অনলাইন কার্যক্রমকে তৈরি করতে হবে শিক্ষকতার ব্রত দিয়ে। ব্যবস্থা হতে হবে মানবিক। প্রয়োজন পড়বে সহযোগিতা ও সহমর্মিতার। আশা করি সবাই ভাবছেন।   ড. এ. কে. এনামুল হক: অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি ও পরিচালক, এশিয়ান সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট

স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার ১৪ বছর পর স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

নিউজবাংলা ডেস্ক: যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে মোশারফ হোসেন নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর)...

এমসি কলেজ কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা : জুডিশিয়াল তদন্তের নির্দেশ

নিউজবাংলা ডেস্ক: সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গৃহবধূ ধর্ষণের ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও কলেজ কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতার বিষয়ে জুডিশিয়াল তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন...

আসলেই কি সব হারিয়েছেন ভারতের শীর্ষ ধনী অনিল আম্বানি?

নিউজবাংলা ডেস্ক ভারতের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি মুকেশ আম্বানি। প্রায় ৬৪ বিলিয়ন বা ছয় হাজার ৪০০ কোটি ডলারের সম্পদ রয়েছে তার।...

নারীর সম্ভ্রম রক্ষায় প্রতীকী নামে রায় দিলেন বিচারক

নিউজবাংলা ডেস্ক: ভুক্তভোগী এক নারীর সম্ভ্রম রক্ষায় এবার যুগান্তকারী রায় ঘোষণা করেছেন মাগুরার মুখ্য বিচারিক হাকিম জিয়াউর রহমান। মামলার রায়ে...

অবিশ্বাস্য ম্যাচে রোহিতদের হারাল কোহলির বেঙ্গালুরু

নিউজবাংলা ডেস্ক: আইপিএলে এসব হচ্ছে কী! কাল শারজার ছোট মাঠে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের ২২৩ রান তাড়া করে জিতল রাজস্থান রয়েলস।...

Must read

কভিড-১৯, শিক্ষাঙ্গন ও শিক্ষকতা

ড. এ. কে. এনামুল হক বহুদিন ঘর থেকে বের হইনি। ভাবলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে দেখি কেমন আছে আমাদের ক্যাম্পাস। যখন পৌঁছলাম তখন বেলা ১টা হবে। পরিচিত কোনো কোলাহল নেই। শিক্ষার্থীবিহীন ক্যাম্পাস দেখতে ভুতুড়েই মনে হলো। ডিপার্টমেন্টে গিয়ে দেখতে পেলাম অফিসের লোকজন এসেছে। তারা পালাক্রমে আসে। যেন একসঙ্গে ভিড় না হয়। দূরত্ব বজায় থাকে। তারাই জানাল মাঝে মাঝে শিক্ষকরাও আসেন। যে যার মতো। কাজ করে চলে যান। বুঝতে পারলাম ক্যাম্পাসের মায়া না থাকলে শিক্ষক হওয়া যায় না। তাই সবাই কোনো না কোনো ছুতায় মাঝে মাঝেই আসেন। আমরা চারজন একটি বই লিখছি। প্রায় এক বছর হলো। চারজন চার দেশে থাকি। একজন থাকেন ওহাইওতে। সেখানে এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। অন্যজন গোয়ায়। ভারতের গোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। অন্যজন নেপালে। হঠাৎ করেই স্প্রিংজার নেচার বইটি প্রকাশ করতে চুক্তিবদ্ধ হওয়ায় আমরা প্রতি সপ্তাহে অন্তত ঘণ্টাখানেক সময় জুম দিয়ে কথা বলি। তাই ভাবলাম, তারাও কি ক্যাম্পাসে যায়? জিজ্ঞেস করি। ওহাইওর অবারলিনের বন্ধুটিকে জিজ্ঞেস করলাম। ক্যাম্পাসে যাও? জানাল, সেও যায়। মাঝে মাঝেই। অবারলিন একটি ছোট শহর। তাই সেখানে খুব একটা লোকসমাগম নেই। ক্যাম্পাস বন্ধ। আমাদের মতোই তারাও অনলাইন ক্লাস করে। জুম অ্যাপটি ব্যবহার করে। ছাত্রছাত্রীরা ক্যাম্পাসে নেই। জানাল যে ক্যাম্পাসে তারা কারো সঙ্গে দেখা হলে দূর থেকেই হাত তোলে স্বাগত জানায়। ধারেকাছে কেউ ঘেঁষে না। কথা বলতে হলে ফোনে কথা বলে। যদিও তার সহকর্মীটি হয়তোবা পাশের কক্ষেই বসে আছে। ক্যাম্পাস খোলার কি লক্ষণ আছে? জানাল ছাত্রছাত্রীদের ভিসা সমস্যা সমাধানের জন্য তারা ক্যাম্পাসে ক্লাসের ব্যবস্থা নিচ্ছে। নচেৎ অনেকেরই যুক্তরাষ্ট্রে থাকার ভিসা রইবে না। কীভাবে করবে? প্রথমত, আমরা প্রত্যেক শিক্ষক, কর্মচারীদের প্রতি দুদিন অন্তর করে কভিড টেস্ট করাচ্ছি। দেখছি ক্যাম্পাসে কভিড রোগী রয়েছে কিনা। আমাদের পলিসি হলো, ক্যাম্পাসে কভিড পজিটিভ শূন্য হলে তবেই ক্যাম্পাস খুলবে। এখন পর্যন্ত তা হয়নি। সর্বশেষ দুজনকে পাওয়া গেছে। তবে ক্যাম্পাসে নতুন প্রোটোকল ঘোষণা হয়েছে। কী রকম? ক্যাম্পাসে আসা না-আসাটা ছাত্রদের নিজস্ব ব্যাপার। কারণ তাদের কভিড হলে বিপদ। দ্বিতীয়ত, বিভাগভেদে সপ্তাহে অন্তত একটি ক্লাস ক্যাম্পাসে নেয়ার চেষ্টা হবে। তাও হবে সীমিতসংখ্যক ছাত্রের উপস্থিতিতে। কারণ শিক্ষার্থীরা একত্রে হলেই জটলা করবে। তখন সারা ক্যাম্পাসে তা ছড়িয়ে পড়তে পারে। এটাই বিপদ। আবার যারা হোস্টেলে থাকবে তাদের প্রত্যেককে আলাদা রুমে রাখার চেষ্টা চলছে। ভাগাভাগি করে থাকার ব্যবস্থা থাকছে না। ভাগাভাগি বলতে বাথরুম, কিচেন ভাগাভাগি বোঝাচ্ছে। অতঃপর? আমরা চেষ্টা করছি কিন্তু সবাই চিন্তিত। কারণ হোস্টেলে কেউ অসুস্থ হলে কী করে আলাদা রাখা হবে? কী করে চিকিৎসার ব্যবস্থা হবে? এসব প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। ভারতের বন্ধুটিকে জিজ্ঞেস করলাম, তোমাদের কী অবস্থা? আমাদের প্রথমে কোনো চিন্তা ছিল না। আমরা ক্যাম্পাসে যেতাম। তবে ক্লাস চলত অনলাইনে। আমরা ব্যবহার করি গুগুলের মিট অ্যাপটি। তবে এতদিন আমরা প্রতিদিনই অফিসে যেতাম। তবে এখন অবস্থা খারাপ। বাসায়ই রয়েছি। নেপালের কী অবস্থা? আমরা তো রয়েছি কারফিউর মাঝে। মানে? মানে সকাল ৫টা থেকে ১০টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা, তবে হাঁটাপথ ছাড়া কেউ বের হতে পারছে না। বাকি সময় কারফিউ। সবকিছু চলছে বাড়ি থেকে। বুঝতেই পারছেন সারা পৃথিবীতে অবস্থা নিয়ন্ত্রণহীন। কী করা যায়, তা নিয়ে যতই অংক কষি না কেন, কী করা যায় তা নিয়ে সবাই চিন্তিত। এরই মাঝে আমার এক ভাগনি জানাল, তাদের স্কুল ক্লাস নাইনের ছাত্রদের ডেকেছে। কী কারণ? ক্লাস নাইনে বোর্ডের রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। বোর্ডের ফরম পূরণ করতে হবে। কী কাণ্ড! বোর্ড কি অনলাইনে ফরম দিতে পারেনি? কী জানি, তবে স্কুল জানিয়েছে যেতে। ক্লাস নাইনের ছাত্ররা যাবে। আচ্ছা! কিছুটা অবাক, কিছুটা চিন্তিত সবাই। কিন্তু কী করা যায়। হেডমাস্টার মনে করেন তার ছাত্রদের ফরম স্বহস্তে পূরণ করতে হলে স্কুলেই যেতে হবে। সবাই কি ঢাকায় আছে? না তা নয়। তবে? যারা ঢাকার বাইরে রয়েছে, তারাও আসবে ফরম পূরণ করতে। কয়েক দিন বাদে খবর পাওয়া গেল, ফরম পূরণ করতে মোট দুদিন যেতে হয়েছে স্কুলে। এই দুদিন তারা প্রচুর আনন্দ করেছে। বহুদিন পর বন্ধুদের পেয়েছে। তবে তার এখন জ্বর! কী বলো? মা-বাবার মাথায় বাড়ি! বাবার অফিস বন্ধ। মায়ের অবস্থা বুঝতেই পারছেন। একঘরে মেয়েকে কী করে আলাদা রাখা যায়? বাথরুমও আলাদা করতে হবে। এদিকে বাবার অফিসে প্রচুর কাজ। কিন্তু তাকেও থাকতে হবে আইসোলেশনে! কভিড টেস্ট করিয়েছ? না করাইনি, তবে হয়েছে। কী করে বুঝলে? জানাল ওর পাঁচ বান্ধবী দুদিন একসঙ্গেই ছিল। একজন এসেছে খুলনা থেকে। সে খুলনা যাওয়ার পথে বাসেই তার জ্বর এসেছে। পরীক্ষায় কভিড ধরা পড়েছে। অন্য আরো দুজনও জ্বরে ভুগছে। তারা পরীক্ষা করিয়েছে। তাদেরও নাকি কভিড পজিটিভ। বাকি রয়েছিল আমার ভাগনি ও অন্য একজন। ওরও জ্বর। সব লক্ষণই রয়েছে। তাই কভিড নয়তো কী? বললাম, পরীক্ষা করিয়ে নাও। বাসায় এসেও পরীক্ষা করা যায়। কী হবে পরীক্ষা করে। রোগ তো বোঝাই যাচ্ছে। তবুও! কয়েক দিন পর জানা গেল মায়েরও জ্বর। কী করা! রিলিফ অপারেশনে নামতে হচ্ছে। বুঝতেই পারছেন। একজনের অসুস্থতা আমাদের সমাজে কতজনকে ব্যস্ত করে তোলে! বললাম, তোমাদের বাসার পাশেই তো হাসপাতাল। যাও পরীক্ষা করাও। সম্ভব নয়! কী কারণ? ওখানে গেলে কভিড না হলেও লাইনে দাঁড়িয়েই নাকি কভিড হবে! আচ্ছা, তবে বাসায়ই করিয়ে নাও। বাসায় করোনা পরীক্ষার ফি শুনে আক্কেলগুড়ুম। প্রতিজনের জন্য ৪ হাজার ৫০০ টাকা। বাসায় চারজনের জন্য গুনতে হবে ১৮ হাজার টাকা! তার চেয়ে বুঝে-শুনে ওষুধ খাই! বোনের সঙ্গে কথা বললাম। আমি তো ওষুধ খাওয়া শুরু করে ফেলেছি! টেস্ট না করেই? শোনো, যত তাড়াতাড়ি ওষুধ ধরবে ততই ভালো। নচেৎ হাসপাতালে যেতে হবে শ্বাসকষ্ট শুরু হলে। তখন বাঁচার সম্ভাবনাই নেই। কী ওষুধ? আমার কাছে লিস্ট করা আছে। ঘটনাটা বলছি কারণ অপরিণামদর্শী শিক্ষা বোর্ড কিংবা প্রধান শিক্ষককে কী বলা যায় বলুন? আমাদের দেশে একজন অসুস্থ হলে কত জনের সাহায্য প্রয়োজন ভেবেছেন কি? এই তুলনায় শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দেয়া যায়। তাদের জ্ঞান বোর্ডের হর্তাকর্তাদের চেয়ে বেশি। তারা দুজনই বলেছেন, ছাত্রছাত্রীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি হয় এমন কাজ আমরা করব না। সবকিছু না বুঝে আমরা শিক্ষাঙ্গন খুলছি না। কিন্তু স্কুলটির প্রধানশিক্ষক বা ঢাকা বোর্ডের জ্ঞানে তা ধরেনি! তাই দেখবেন এসব সরকারি কর্মচারীর চেয়ে আমাদের রাজনীতিকরা অনেক বেশি সংবেদনশীল। অনেক বেশি জনদরদি। এর মধ্যেই বরিস জনসন সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করলেন, লন্ডনে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় খুলেছিল কিন্তু শিক্ষার্থীরা দূরত্ব পালন করেনি। রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। তাদের আবার বাড়তি চিন্তা। শিক্ষার্থীরা হোস্টেল থেকে বাসায় গেলে বাসায় তা ছড়াবে। তাই তার অনুরোধ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেন চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। বুঝতেই পারছেন। অবস্থা কেমন। তিনি শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করলেন, বাবারা মাস্ক পরো আর দূরত্ব বজায় রাখো। আমার মনে পড়ে গেল ভাগনিটির কথা। অসম্ভব ব্যাপার। শিশু-কিশোরদের দূরত্ব বজায় রাখার চিন্তা কি সম্ভব? কথা হচ্ছিল ব্যাংককের এআইটির এক অধ্যাপকের সঙ্গে। তিনি জানালেন, থাইল্যান্ড করোনাকে সামলে নিয়েছে। সেখানে রোগের প্রাদুর্ভাব কমেছে। সেখানে দিনে ১০ জনের নিচে রোগী ধরা পড়ছে গত মে মাস থেকে। তাই তারা খুলছে। তবে তাদের ইনস্টিটউটে বিদেশী ছাত্ররা এখনো অনলাইনে ক্লাস করছে। থাই ছাত্ররা ক্লাসরুমে  আসছে। তবে ইনস্টিটিউট ক্যাম্পাসে তৈরি করেছে পৃথক আবাসস্থল। যেখানে করোনা রোগী ধরা পড়লে থাকবে। সবই করতে হয়েছে তাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে। আমার সহধর্মিণীও শিক্ষক। তিনিও নিয়মিত জুমে ক্লাস নিচ্ছেন। তার ছাত্রদের বয়স চার-পাঁচ বছর হবে। বললাম, কী করে তোমরা অনলাইনে পড়াও? ওরা কি জানে কী করে কলম ধরতে হবে? ওদেরকে কলম ধরানোও শেখাতে হয়। হুম। সহজ না। কিন্তু মায়েরা পাশেই থাকে। তাদের সাহায্য করতে হয়। বুঝলাম কিন্তু যে মায়ের দুটি সন্তান দুটি ক্লাসে পড়ে? কিংবা যে বাসায় তিনটি ছাত্র, একসঙ্গে ক্লাসে অনলাইনে বসে কী করে? উত্তর নেই। কিংবা যদি মা-বাবা শিক্ষিত নন, তাদের অবস্থা কী? আমরা চেষ্টা করি বুঝিয়ে দিতে। আর কী করা যাবে। তবে মায়েরা বহু কষ্ট করছে। তারাও পড়ছে। সন্তানদের সঙ্গে। তবে আমরা চেষ্টা করি ক্লাসের সময় কমিয়ে দিতে। কারণ মোবাইল সবার নেই। সবাই একসঙ্গে পড়তে গেলে নীরব কক্ষ ঘরে থাকবে না। আবার সবাই ভিডিও ক্লাস করতে না-ও চাইতে পারে। কারণ বাসার অবস্থা বাকি সবাইকে জানান দেয়ার ইচ্ছা অনেকের নেই। বুঝতেই পারছেন। সারা বিশ্বে শিক্ষা ব্যবস্থা পার করছে একটি কঠিন সময়। এর মধ্যে দেখলাম আমাদের কোনো কোনো সহকর্মী অনলাইন পরীক্ষায় নকল নিয়ে অত্যন্ত চিন্তিত। ছাত্রছাত্রীদের ক্যামেরা খুলে রাখতে বলছেন। অনেকেই তা করতে চায় না। অনেকেই বাসায় আত্মীয়পরিজন নিয়ে বাস করে। সবাই কাজে ব্যস্ত। এ সময় ক্যামেরা অন করে ক্লাস করা বাধ্যতামূলক করাকে অনেকেই পছন্দ করে না। কারণ সবাই হয়তো ক্যামেরায় চেহারা দেখানোর অবস্থায় থাকে না। এক সহকর্মী তো বলেই বসলেন, কেন ওরা ক্যামেরা খুলে রাখতে পারবে না? কেন জিআরই পরীক্ষার সময় তো পারে! কী বলা যায় তাকে? আমাদের সব শিক্ষক শিক্ষকের যোগ্যতা যে রাখেন না, সব প্রধান শিক্ষক যে প্রধান শিক্ষকের উপযুক্ত নন, তারই প্রমাণ এসব ঘটনা। শিক্ষকতা কোনো চাকরি নয়, এটা যে একটি ব্রত, তা অনেকেই না বুঝে চাকরি করতে এসেছেন। তাদের নিয়েই যত বিপদ। মুদ্রার ওপিঠ রয়েছে। আমার এক ছাত্রী। তার তিন বছরের ছেলেকে নিয়ে বিপদে রয়েছে বলে জানাল। বলল, বয়স তিন তাই ওর সমবয়সীদের সঙ্গে না মিশলে হচ্ছে না। বাসায় থেকে যন্ত্রণা করছে। ছটফট করছে ঘরে বসে। কী করা যায় বুঝতে পারছি না। বললাম স্কুলে দিলেও বিপদ হতে পারে। শিশুদের অধিকাংশেরই কভিড উপসর্গ কম দেখা যায়। তারা সহজে কাশতেও পারে না। তাই তাদের কভিড হলে বিপদ বেশি। তাই সাবধান থাকতে হবে। স্কুল খুলে গেলে দেখবে এক শিশু তা ছড়াচ্ছে অন্য শিশুকে আর তা থেকে ছড়াবে বাসায় বাসায়। বাংলাদেশ উন্নত বিশ্ব নয় যে শিশুকে হাসপাতালে রেখে মা-বাবারা কাজে যেতে পারবেন। তখন শিশুসহ পরিবারের সবাই হয় অসুস্থ হবে নচেৎ চিকিৎসা-পরিচর্যায় ব্যস্ত হবে। কী পরিমাণ বিপদ হতে পারে তা কল্পনাও করা যায় না। মোদ্দাকথা, করোনায় সবচেয়ে বেশি বিপর্যয় হবে শিক্ষাঙ্গনে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায়। সব ক্ষেত্রে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা যেমন প্রয়োজন, তেমনি অনলাইন কার্যক্রমকে তৈরি করতে হবে শিক্ষকতার ব্রত দিয়ে। ব্যবস্থা হতে হবে মানবিক। প্রয়োজন পড়বে সহযোগিতা ও সহমর্মিতার। আশা করি সবাই ভাবছেন।   ড. এ. কে. এনামুল হক: অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি ও পরিচালক, এশিয়ান সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট

স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার ১৪ বছর পর স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

নিউজবাংলা ডেস্ক: যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে মোশারফ...

আপনার পছন্দের সংবাদRELATED
Recommended to you