খোলা কলাম জীবন কি তুচ্ছ হয়ে গেল?

জীবন কি তুচ্ছ হয়ে গেল?

-

মতিউর রহমান চৌধুরী : জীবন আর জীবিকা। এ দু’টার মধ্যে লড়াই আদিকাল থেকেই। আখেরে জীবন জিতেছে। জীবিকা হেরে গেছে। কারণ জীবন না থাকলে জীবিকা অর্থহীন। কিন্তু আমরা বাংলাদেশে কি দেখতে পাচ্ছি? ভয়ংকর ভাইরাসের থাবা যখন তুঙ্গে তখনই আমরা সব দরজা, জানালা খুলে দিচ্ছি। কারণ নাকি একটাই। মানুষ জীবনকে তুচ্ছ করে জীবিকার লড়াই চালিয়ে যেতে চায়।

এটা ঠিক মানুষ আর কতদিন পেটে গামছা বেধে থাকবে। সে ঘরে বসে ছটফট করছে। বাঁচার তাগিদে সে দরজা, জানালা খুলে বের হয়ে আসতে চাচ্ছে। নিঃসন্দেহে এটা একটা নতুন মুসিবত। অর্থনীতির চাকা ঘুরছেনা। চারদিকে শুধু আফসোস আর আফসোস। কি হবে, কি হবে রব। মন খারাপের অসুখে পেয়ে গেছে অনেককে। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন দীর্ঘদিন বন্দী থাকলে এমনটাই হবে। এর একমাত্র দাওয়াই কি দরজা ভেঙ্গে বের হয়ে যাওয়া? তাই যদি হয় তাহলে রেখে ঢেকে কেন? এক ঘোষণায় বলে দিলেই হয়। বাংলাদেশ চলবে তার মত করে। এই যুক্তি মন্দ নয়। কিন্তু আমরা যখন সকাল বিকাল সিদ্ধান্ত’র পরিবর্তন দেখি তখনই মনে হয় রাষ্ট্রকে অসুখে পেয়ে বসেছে। অস্থিরতাও দেখছি সরকারে। গত ২৪ ঘণ্টায় কতগুলো সিদ্ধান্ত দেখলাম! শিরোনাম এলো আর ছুটি বাড়বেনা। বলা হলো সবকিছু স্বাভাবিক হলেও গণপরিবহন চলবেনা। দু’ঘণ্টা পর আরেক ফরমান। সীমিত আকারে গণপরিবহনও চলবে। গণপরিবহন চলছে সীমিতভাবে এটা নিশ্চিত করবে কে? এই শক্তি কি আমাদের আছে? হুড়মুড় করে সব পরিবহন রাস্তায় নেমে পড়বে। তখন নিয়ন্ত্রণ করবে কে? বাস্তবে এর বিপরীতটাই ঘটবে। অতীত অভিজ্ঞতা তাই বলে। ক’দিন আগেইতো আমরা দেখলাম নতুন অ্যাপের জন্ম হচ্ছে। আপনি কোথায় যাবেন, কেন যাবেন তা জানাতে হবে অ্যাপের মাধ্যমে। সে সিদ্ধান্তও নিমিষেই হারিয়ে গেল। ২৪ ঘণ্টায় আরেকটা সিদ্ধান্ত হলো। এখন থেকে সব হাসপাতালে কোভিড-১৯ রোগীর চিকিৎসা হবে। আচ্ছা বলুনতো কয়টা হাসপাতালে এই সুবিধা রয়েছে? যেখানে শয্যাই নেই সেখানে কোভিড রোগীর চিকিৎসা হবে কিভাবে? করোনা রোগীদের বেশিরভাগের জন্য ভেন্টিলেশন অপরিহার্য। হাসপাতালগুলোর চেহারা আমাদের সামনে ভাসছে। পাঁচ তারকা হাসপাতাল ছেড়ে কেন সিএমএইচ-এ যাওয়ার প্রাণান্তকর চেষ্টা? স্বীকার করতেই হবে স্বাস্থ্যসেবা একদম নুইয়ে পড়েছে। পড়ারই কথা। কারণ স্বাস্থ্য সেবা বছরের পর বছর ধরে উপেক্ষিত। দুর্নীতি আর লুটপাটে একদম কাহিল। এক সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিবার যেভাবে দুর্নীতি করেছে তাতো দেশি বিদেশি মিডিয়ায় এসেছে। কোন তদন্ত হয়নি। কারণ অজ্ঞাত। কেউ জানার চেষ্টাও করেনা। মিডিয়াও ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। অন্যদেশ খুলে দিয়েছে তাই আমি ঘরে বসে থাকব কেন? এমন যুক্তিও দেখানো হচ্ছে। অন্য দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাতো আমাদের মত নয়। সবাই জানে করোনা ভাইরাস যখন পিকে তখন আমেরিকা কিংবা ইংল্যান্ডের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মত অতি উন্নত ব্যবস্থাও ভেঙ্গে পড়েছিল। আমাদের এখানে স্ববিরোধীতা ভরপুর। একদিকে আমরা সব ওপেন করে দিচ্ছি।
অন্যদিকে সব হাসপাতালকে কোভিড-১৯ হাসপাতালে পরিণত করছি। তার মানে কি? আমরা কি ধরে নিচ্ছি যা হবার হবে দেখা যাক না! অনেক রাষ্ট্রনায়ক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ উপেক্ষা করে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে গিয়ে অনেক মুল্য দিয়েছেন এবং দিচ্ছেন। উদাহরণ হিসেবে ব্রাজিলের কথা বলা যায়। দেশটির প্রেসিডেন্টের একগুয়েমী সিদ্ধান্তের কারণে দু’জন স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বিদায় নিতে হয়েছে। সংক্রমণের দিক থেকে দেশটির স্থান এখন যুক্তরাষ্ট্রের পরেই।  প্রতিদিনই মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একজনও বলেননি এই পিকের সময় দরজা খুলে দিতে। বরং তারা প্রতিদিনই মিডিয়ার সামনে এসে বলছেন কোথায় যেন ভুল হচ্ছে। তারা কারফিউ দেয়ার পরামর্শও দিয়ে চলেছেন। কে শুনে কার কথা! শুধু শহরে নয়। গ্রামেও পৌঁছেছে অদৃশ্য এই ভাইরাসটি। দলে দলে গ্রামে যাবার মিছিল না থামাতে পারাই কি এর মূল কারণ? যে যাই বলেন মৃত্যু ভয় কার নেই! নিজের মাকে যেখানে বাড়িতে ঢুকতে দেয়না সেখানে আমরা বলছি জীবন তুচ্ছ। জীবিকার লড়াইয়ে সামিল হোন। মানছি আবেগ একটা সমুদ্রের ঢেউয়ের মত। তাই মানুষের আবেগ কঠিন বাস্তবকেও শুষে নেয়। অনেকে আমার সঙ্গে একমত নাও হতে পারেন। এই কঠিন সময়ে বলব করোনার সংক্রমণের গ্রাফ যেখানে ঊর্ধ্বমুখী সেখানে তাড়াহুড়ো করে সব প্রত্যাহার করে নেয়াটা হবে আত্মঘাতী। সবই যখন প্রত্যাহার হয়ে গেল তখন আর স্বাস্থ্য বুলেটিনের প্রয়োজন কি? এটাও প্রত্যাহার হয়ে যাক। মানুষ আর জানবেনা। মনও খারাপ করবেনা। যদিও এর বিশ্বাস যোগ্যতা নিয়ে শুরু থেকেই বিস্তর কানাঘুষা । অনেকে এখানে প্রয়াত সাংবাদিক ফয়েজ আহমেদকে স্মরণ করেন। ফয়েজ আহমেদ লিখেছিলেন সত্যবাবু মারা গেছেন। যাইহোক, সব সত্য যে সত্য নয় এটা আমরা অনেকদিন আগেই রপ্ত করেছি। পবিত্র সুরা আল-বাকারার একটি আয়াত এখানে উদ্ধৃত করে লেখাটা শেষ করতে চাই।
আয়াতে বলা হয়েছে, তোমরা সত্যকে মিথ্যার সঙ্গে মিশিও না, জেনে শুনে সত্যকে গোপন করো না।
শেষ কথা: কামনা করছি যেন দ্বিতীয়বারের মত লকডাউন দিতে না হয়।

Courtesy: Manabzamin.

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ সংবাদ

করোনায় সাবেক এমপি শামসুল হকের মৃত্যু

নিউজবাংলা ডেস্ক: টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য শামসুল হক তালুকদার ছানু (৭৫) করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। গতকাল...

কাশবনে তরুণীকে যৌন নিপীড়ন : যুবক গ্রেফতার

নিউজবাংলা ডেস্ক: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরে কাশবনে ঘুরতে যাওয়া এক তরুণীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় জুনায়েদ (২৪) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে...

আসামিদের পক্ষে দাঁড়াননি কোনো আইনজীবী

নিউজবাংলা ডেস্ক: সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে গৃহবধূকে গণধর্ষণের মামলায় গ্রেফতার তিন আসামির পক্ষে আদালতে দাঁড়াননি কোনো আইনজীবী। সোমবার...

ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ : ৫ দিনের রিমান্ডে রবিউল

নিউজবাংলা ডেস্ক: সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি কলেজ শাখা মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের...

ডনাল্ড ট্রাম্প দুই বছরে আয়কর দিয়েছেন ৭৫০ ডলার করে

নিউজবাংলা ডেস্ক: সংবাদপত্রটি জানিয়েছে, ট্রাম্প ও তার কোম্পানিগুলোর দুই দশকেরও বেশি সময়ের আয়করের রেকর্ড তাদের হাতে এসেছে। ট্রাম্প গত ১৫ বছরের...

করোনায় মৃত্যু দশ লাখ ছাড়াল

নিউজবাংলা ডেস্ক: প্রাণঘাতী ভাইরাস করোনার ভয়াবহতা থামছেই না। সারা বিশ্বে এখনো প্রতিনিয়ত তাণ্ডব চালাচ্ছে অচেনা ভাইরাসটি। এরই মধ্যে বিশ্বব্যাপী করোনায়...

Must read

করোনায় সাবেক এমপি শামসুল হকের মৃত্যু

নিউজবাংলা ডেস্ক: টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য...

কাশবনে তরুণীকে যৌন নিপীড়ন : যুবক গ্রেফতার

নিউজবাংলা ডেস্ক: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরে কাশবনে ঘুরতে যাওয়া এক তরুণীকে...

আপনার পছন্দের সংবাদRELATED
Recommended to you