নিউজবাংলা ডেস্ক 

দুই দফা দাবির সমর্থনে এবি পার্টির প্রতিবাদী পদযাত্রায় আবারও বাধা দিয়েছে পুলিশ। পুলিশী বাধার আগে অনুষ্ঠিত সমাবেশে এবি পার্টির নেতৃবৃন্দ বলেছেন, অবৈধ সরকার জোর করে যত বছরই ক্ষমতায় থাকুক না কেন তার মসনদ সবসময় নড়বড়ে থাকে। কারও কোন ধাক্কায় কাজ না হলেও সে একসময় নিজ থেকেই হুড়মুড় করে ভেঙ্গে পড়বে।
আজ সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে পূর্বনির্ধারিত প্রতিবাদী পদযাত্রার প্রাক্কালে আয়োজিত সমাবেশে একথা বলেন, এবি পার্টির নেতৃবৃন্দ। “অন্তর্বর্তীকালীন নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন ও রাষ্ট্র মেরামতের রুপরেখা প্রণয়নে সকলের ঐক্যমত প্রতিষ্ঠা”র দুই দফা দাবিতে পদযাত্রার আয়োজন করে আমার বাংলাদেশ পার্টি-এবি পার্টি। সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে পদযাত্রাটি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে শুরু হয়ে তোপখানা রোড অভিমূখে যাত্রা শুরু করলে ডিএমপি’র সহকারী পুলিশ সুপার জনাব তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ পদযাত্রাটি আটকে দেয় এবং ব্যানার গুটিয়ে নিতে বলে। এসময় এবি পার্টি নেতৃবৃন্দ প্রতিবাদ জানান। পরে পুলিশ পদযাত্রাটি তোপখানা সড়ক থেকে সেগুনবাগিচার দিকে ঘুরিয়ে দেয়। এবি পার্টির বিক্ষুব্ধ কর্মীরা তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে সেগুন বাগিচা সড়ক ঘুরে জাতীয় রাজস্ব ভবন, রমনা থানা ও কাকরাইল হয়ে বিজয়নগরস্থ দলীয় কার্যালয়ে এসে থামে।
দলের যুগ্ম-আহবায়ক প্রফেসর ডা. মেজর (অব.) আব্দুল ওহাব মিনার এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পদযাত্রা পূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির সদস্য সচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু, যুগ্ম সদস্য সচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ ও ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমদ ভূঁইয়াসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর ডা. মিনার বলেন, আমরা বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচন থেকে দেখতে পেয়েছি যে, কোন দলীয় সরকার সুষ্ঠ নির্বাচন আয়োজনের তাগাদা অনুভব করেন না। কিন্তু বিরোধীদলে থাকা অবস্থায় তারা নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া কোন বিকল্প খুঁজে পান না- এটা এক ধরনের প্রহসন। এই প্রহসন থেকে জাতীয় রাজনীতিকে উদ্ধার করতে হবে।

সদস্য সচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, সরকারী দলের নেতারা হতাশা ব্যাক্ত করে বলেন, এত উন্নয়ন তবুও তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয় কেন? তিনি তাদের এই প্রশ্নের উত্তরের জন্য মালেশিয়ার মাহাথির মোহাম্মদের পরিণতি অধ্যয়ন করতে বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের মঞ্চ ভেঙ্গে নেতারা সবাই ভূপাতিত হবার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এটা কে সতর্ক সংকেত হিসেবে গ্রহণ করুন। অবৈধ সরকার জোর করে যত বছরই ক্ষমতায় থাকুক না কেন তাঁর মসনদ সবসময় নড়বড়ে থাকে। কারও কোন ধাক্কায় কাজ না হলেও সে একসময় নিজ থেকেই হুড়মুড় করে ভেঙ্গে পড়বে বলে তিনি হুশিঁয়ারী উচ্চারণ করেন। এবি পার্টি যুগপৎ নয় বরং স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে ঘোষিত দুই দফার ভিত্তিতে জাতীয় আন্দোলন চালিয়ে যাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সকল কাঠামো ধ্বংস করে দিয়েছে গত ১৪ বছরে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আস্থার সংকট এতই প্রকট যে, নির্বাচনকালীন সরকার অথবা জাতিসংঘসহ আমাদের উন্নয়ন সহযোগীদের তত্ত্বাবধানে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছাড়া কোন গ্রহনযোগ্য নির্বাচন হতে পারবে না। মিছিল ও পদযাত্রায় বাধা দিয়ে সরকারের পেটোয়া বাহিনী আবারও ঘৃণ্য স্বৈরতন্ত্রের দালালী করছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

পদযাত্রাপূর্ব সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, সিনিয়র সহকারী সদস্য সচিব আনোয়ার সাদাত টুটুল, এবি যুব পার্টির আহ্বায়ক এবিএম খালিদ হাসান, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আলতাফ হোসেইন, দলের সহকারী সদস্য সচিব আনোয়ার ফারুক ও এম ইলিয়াছ আলী, যুব পার্টির সদস্য সচিব শাহাদাত উল্লাহ টুটুল, মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহবায়ক গাজী নাছির, যুগ্ম সদস্য সচিব সফিউল বাসার, মহানগর উত্তরের সেলিম খান, কেন্দ্রীয় নেত্রী সুলতানা রাজিয়া, আব্দুর রব জামিল, নজরুল ইসলাম, দক্ষিণের আব্দুল হালিম নান্নু, ফেরদৌস আক্তার অপি, যুব পার্টির হাদি উজ্জামান, মাসুদ জমাদ্দার রানা সহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here