হুমায়ুন কবির, ঝিনাইদহ 

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচনে অংশ নিতে সাম্ভাব্য প্রার্থীরা এখন ভোটের মাঠে। মেয়র পদে এখন পর্যন্ত ১০ জন প্রার্থী রয়েছেন বলে জানা যায়। তাদের কেউ কেউ জোরে সোরে, কেউ আবার উপরের সিগন্যালের আশায় ঢিমেতালে, কেউবা নিজের নাম ফোটাতেই শুধুমাত্র ভোটের মাঠে ঘুরছেন। আর কাউন্সিলর পদে অংশ নিতে ৯ টি ওয়ার্ডের প্রার্থীরা দোয়া প্রার্থনা করে পাড়া মহল্লার মোড়ে মোড়ে উচ্চ ভবনে ও বিদ্যুতের পিলারে ফেস্টুন সাটিয়েছেন। এরমধ্যে বেশির ভাগই আবার কম খরচে প্রার্থীতা জানান দিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুককে বেছে নিয়েছেন।
রাজনৈতিক দলগত ভাবে এ উপজেলাতে আ’লীগ ও বিএনপি বড় দুটি দলেই আভ্যন্তরিন ভাবে দু’টি করে গ্রুপ বিদ্যমান আছে। সেই সুত্রেই স্থানীয় ভাবে দলীয় প্রার্থী বাছাই নিয়েও চলছে তাদের কোন্দল। ইতিমধ্যে এ নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী দিতে ওই দুটি দলের স্ব, স্ব গ্রুপ থেকে দু’জন করে প্রার্থীর নামও উঠে এসেছে।
দলীয় ভাবে এবার ভোটের মাঠে থাকা ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামীলীগের বর্তমান মেয়র আশরাফুল আলম আশরাফ সহ ৮ জনই নৌকা চাচ্ছেন। আর বিএনপির থেকে দু’গ্রুপের দু’জন ধানের শীষ প্রতিকের আশায় রয়েছেন। আগামী ২৮ ফেব্রয়ারী এ পৌর সভার ভোটগ্রহন অনুষ্টিত হবে।
এ পৌরসভাতে আ’লীগের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান দু’টি গ্রুপের মধ্যে এক গ্রুপের নেতৃত্বে আছেন বর্তমান সরকার দলীয় সাংসদ ও কালীগঞ্জ উপজেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক আনোয়ারুল আজিম আনার। ইতিমধ্যে জেলা আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী বাছাই নির্দ্দেশনায় গত ৪ ডিসেম্বর পৌর আ’লীগের সভাতে বর্তমান মেয়র ও পৌর আ’লীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক আশরাফুল আলম আশরাফকে একক মেয়র প্রার্থী নাম চুড়ান্ত করে জেলা ও কেন্দ্রে পাঠিয়েছেন। তিনি এমপি আনার পক্ষীয় অনুসারী। অপরদিকে পাল্টা গ্রুপের নেতৃত্ব দেওয়া সাবেক সাংসদ আব্দুল মান্নান পক্ষীয়রাও তার ভাইপো উপজেলা সেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ন আহব্বায়ক শাহেদ কবির লিমনকে মেয়র প্রার্থী করে নাম পাঠিয়েছেন। এছাড়াও আ’লীগের থেকে নৌকার টিকিট পাওয়ার জন্য আরও ৬ জন প্রার্থী সমান তালে আ’লীগের জেলা ও কেন্দ্রে জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা হলেন, যুবলীগ নেতা ও সাবেক মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান বিজু, উপজেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন সোহেল, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান মতি, যুবলীগের সভাপতি ও পৌর কাউন্সিলর রেজাউল করিম রেজা, বর্তমান এমপি আনোয়ারুল আজিম আনারের ভাই এনামুল হক ইমান, সাবেক এমপি আব্দুল মান্নানের ভাই আব্দুর রশিদ খোকন ও পৌর আ’লীগের প্রচার সম্পাদক প্রশান্ত কুমার খাঁ।
অন্যদিকে কালীগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির মধ্যে শক্ত দুটি গ্রুপ বিদ্যমান থাকায় তারাও পৃথক পৃথক মেয়র প্রার্থী ঘোষনা দিয়েছে। গত সাংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থী ও সেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রিয় কমিটির সিনিঃ সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম ফিরোজ গ্রুপ থেকে মেয়র পদে উপজেলা বিএনপির আহব্বায়ক ও সাবেক মেয়র মাহাবুবুর রহমানের নাম ঘোষনা করেছে। অপর গ্রুপ সাবেক সাংসদ শহিদুজ্জামান বেল্টু ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ন আহব্বায়ক হামিদুল ইসলাম হামিদ পক্ষীয় থেকে পৌর বিএনপির আহব্বায়ক আতিয়ার রহমান প্রার্থী হচ্ছে। তবে, সর্বশেষ গত সোমবার জেলা বিএনপি কার্যালয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপির আহবায়ক ও যুগ্ম আহবায়কদের নিয়ে একটি সভার মাধ্যমে একক দলীয় প্রার্থী হিসেবে সাবেক মেয়র ও কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আলহাজ¦ মাহবুবার রহমানের নাম সুপারিশ করে কেন্দ্রে পাঠিয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের উভয় গ্রুপই এখন কেন্দ্রের সবুজ সংকেত ধানের শীষ প্রতিকের আশায় বসে আছেন। সব মিলিয়ে এ পৌরসভার নির্বাচনে আ’লীগ ও বিএনপি বড় দুটি দলের মধ্যেই প্রার্থী চুড়ান্ত করা নিয়ে নেতা কর্মীদেরকে কেন্দ্রের দিকেই তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে। এদিকে, এখন পর্যন্ত আ’লীগ ও বিএনপি থেকে একাধিক প্রার্থীর নাম শোনা গেলেও জাতীয় পাটি, জামায়াত বা অন্য কোন দলের থেকে কারো নাম শোনা যায়নি। তাই সর্ব্বত্রই সাধারন ভোটারদের মুখে মুখে একটিই আলোচনা কে কে হচ্ছেন নৌকা বা ধানের শীষের মালিক।
এ পৌরসভার নির্বাচনে প্রার্থীদের নিয়ে ভোট বিশ্লেষনে সাধারন ভোটারদের অভিমত, মেয়র পদে প্রার্থী হওয়া নিয়ে এখন পর্যন্ত একাধিক প্রার্থির নাম শোনা গেলেও শেষ অবধি হয়ত ৩/৪ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে থাকতে পারেন। এদের অনেকেই আবার শুধুমাত্র নাম ফোটাতেই প্রার্থীতা জাহির করছেন বলে বে-রসিক ভোটাররা দোকানে চায়ের কাপে আড্ডায় ঝড় তুলছেন। সব মিলিয়ে দলীয় প্রতিকের উপরই নির্ভর করছে এ পৌরসভার ভোটযুদ্ধ। যে কারনেই আ’লীগ ও বিএনপির ভাইটাল প্রার্থীরা এখন ভোটের মাঠ ছেড়ে কেন্দ্রে তদবির ও নেতাদের আশির্বাদ পেতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here