এসএ আলমগীর, মানিকগঞ্জ,
মানিকগঞ্জের তানভীর আহমেদ সারা দেশেই তার ফুলের সৌরভ ছড়িয়ে দিচ্ছেন। তার সংগ্রহে রয়েছে ৭১৭টি ফুল এবং ফলের গাছ। এর মধ্যে ৫১৩ টি দেশী বিদেশী প্রজাতির ফুল গাছ এবং ১৪০টি বিভিন্ন ধরনের ফলগাছ রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়ে ফুলের বাগানে মনোনিবেশ করেন তানভির। শিক্ষিত এই যুবকের বাগানে রয়েছে শত শত ফুল ফলের গাছ । এইসব বিক্রি করে তিনি হয়েছেন আর্থিকভাবে লাভবান। সেই সঙ্গে পেয়েছেন দেশজোড়া খ্যাতি।
বিরল প্রজাতির গাছের সংগ্রহ এবং সাজানো নার্সারিটি দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিনই আসছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। তানভীর জেলার হরিরামপুর উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের আব্দুল খালেকের সন্তান। তার মায়ের নাম আছিয়া খাতুন। চার ভাইবোনের মধ্যে তানভীর সবার ছোট।
ওই বাগানে গিয়ে সরেজমিনে দেখা যায় চোক ধাঁধানো ফুল ও ফল গাছের সমারোহ। বাগানটির উদ্যোক্তা তানভীর আহমেদ সহ আরও দুইজন শ্রমিক গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। তানভীর আহমেদ বলেন, বাগান করা আমার মায়ের শখ ছিলো। তাঁর নিকট থেকে বাগান করার ব্যাপারে আমি অনুপ্রাণিত হই। ১৯৯৬ সালে আমার মা এবং ২০০৯ সালে বাবা মারা যান। ২০১৪ সালের দিকে আমি বাড়ির আঙিনায় ছোট পরিসরে একটি বাগান করি। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে বাণিজ্যিকভাবে এই বাগানটি শুরু করি। ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে আমার প্রতিবেশী এলিন শিকদারের কাছ থেকে পাঁচ বছরের জন্য ২৪ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে বাগানটি করি। দুই বছরের মাথায়, এই বাগানে এখন আমেরিকা, চায়না, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও ভারতসহ বিশ্বের ২৫টি দেশের ৭১৩ প্রজাতির ফুল ও ফল গাছের সংগ্রহ রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমি ২০১০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স-মাস্টার্স পাস করি। ছাত্রজীবন থেকেই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি ফুল এবং ফলগাছের বাগান বিষয়ে পড়াশোনা করেছি। সেই পড়াশোনা এখন কাজে লাগছে। ভালো লাগা, ভালবাসা থেকেই বাগান করেছি। এ ব্যাপারে থাইল্যান্ড এবং আমেরিকার কয়েকজন বন্ধু আমাকে নানাভাবে সহায়তা করেছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমার বাগানে এখন ১০৭ প্রজাতির শাপলা, ৫৬ প্রজাতির পদ্ম ও ২০ প্রজাতির অন্যান্য জলজ ফুল গাছ রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে ১০০ প্রজাতির জবা, ৬০ প্রজাতির গোলাপ, ৪০ প্রজাতির কাঠ গোলাপ, ১০০ প্রজাতির গোলাপ, ৪০ প্রজাতির সুগন্ধি ফুল ও ৫০ প্রজাতির লতানো ফুল গাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফুল ও ফলের গাছ।

এসবের মধ্যে এঞ্জেল ট্রাম্পেট, কানাইডিংগা, ক্যানাঙ্গা, বিভিন্ন রঙের দোলন চাঁপা, ডম্বিয়া, স্থল পদ্ম, জল গোলাপ, নীল মনি, শ্বেত মনি, বেলি, পার্সিয়ান জুঁই, সরস্বতী চাঁপা, পদ্ম, আফ্রিকান বাওবাব, হলুদ শিমুল, রাজ অশোকসহ ৭১৩ প্রজাতির ফুল ও ফলের গাছ আছে। তিনি আরও জানান দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ আমার বাগানে এসে ফুল ও ফলের গাছ কিনছেন। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনসহ গাজীপুরের বিভিন্ন রিসোর্টে এবং রাজধানীর গুলশানে নিয়মিত গাছ সরবরাহ করছি। বর্তমানে আমার বাগানে প্রায় ৩০ লাখ টাকার বিভিন্ন গাছ রয়েছে। তবে বন্যায় কিছু গাছের ক্ষতি হয়েছে।
হরিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল গফফার বলেন, ‘তানভীর আহমেদের করা বাগানটি ব্যতিক্রমধর্মী। দেশী-বিদেশী বিরল প্রজাতির ফুল ও ফলের গাছ রয়েছে তাঁর সংগ্রহে। এসব ফুল ও ফল গাছের বেশ চাহিদা রয়েছে। শিক্ষাজীবন শেষ করে গতানুগতিক চাকরি না খুঁজে তার মতো উদ্যোগী হয়ে অনেকেই বাগান করে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেন। আমি নিয়মিত বাগানের খোঁজ খবর রাখছি। যদি কেউ বাগান কিংবা স্বতন্ত্র ও প্রচলিত কৃষি উদ্যোগ গ্রহণ করতে আগ্রহী হন, তবে আমি তাঁকে সাধ্যমত সহযোগিতা দিব।’






