জাতীয় সংসদের গণসংযোগ শাখার এক কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার হন তিনি।
শওকত আলী হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।

শওকত আলী সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ছিলেন। কর্নেল পদে থাকা অবস্থায় তিনি অবসরে যান। শওকত আলী শরীয়তপুর-২ আসনের সাবেক সাংসদ। এই আসন থেকে ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে যে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা হয়েছিল, সেই মামলায় শওকত আলীও আসামি ছিলেন।

শওকত আলীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইংয়ের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। শোকবার্তায় শেখ হাসিনা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় শওকত আলীকে ২৬ নম্বর আসামি করা এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে একসঙ্গে কারাবাস করার ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রাম, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং সংসদীয় গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণে শওকত আলীর অবদান জাতি সব সময় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। দেশ এক প্রবীণ জননেতাকে হারাল, আমি হারালাম বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন বিশ্বস্ত সহকর্মীকে।’

প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত শওকত আলীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

জাতীয় সংসদের পরিচালক (জনসংযোগ) তারিক মাহমুদ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, শওকত আলী মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও ৭১ ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি বলেন, আজ সোমবার বাদ মাগরিব তাঁর জানাজা বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া বেলা ৩টায় শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তাঁর মরদেহ জাতীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে। কাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় সশস্ত্র বাহিনীর হেলিকপ্টারে তাঁর মরদেহ শরীয়তপুর জেলার নড়িয়ায় নেওয়া হবে। সেখানে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ নড়িয়া শহীদ মিনারে রাখা হবে। বাদ জোহর নড়িয়া বি এল উচ্চ বিদ্যালয়ে জানাজা শেষে নিজ বাড়িতে শরীয়তপুরের নড়িয়ায় অবস্থিত স্বাধীনতা ভবনে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here