নিউজবাংলা ডেস্ক
সাদা পোশাকের টেস্ট ক্রিকেটে সমানে সমান লড়েছিল জিম্বাবুয়ে। কিন্তু পোশাকে রঙ লাগতেই বদলে গেল পুরো চালচিত্র। এবার সাদা বল ও রঙিন পোশাকের টি-টোয়েন্টি সিরিজের সফরকারী জিম্বাবুয়েকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করছে আফগানিস্তান ক্রিকেট দল। তারা এক ম্যাচ হাতে রেখেই নিশ্চিত করে ফেলেছে সিরিজের শিরোপা।
পরপর দুই ম্যাচে ১৯০ ছাড়ানো সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছে আফগানিস্তান। প্রথম ম্যাচে ৪৮ রানে জেতার পর আজ (শুক্রবার) দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে তাদের জয় ৪৫ রানের ব্যবধানে। এবার আফগানদের বড় সংগ্রহ এনে দেয়ার অন্যতম কারিগর মাত্র ১৫ বলে ৪০ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলেন মোহাম্মদ নাবী।
আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় আফগানিস্তান। মাত্র ৮ রান করেই ফিরে যান আগের ম্যাচের জয়ের নায়ক রহমানউল্লাহ গুরবাজ। তবে দ্বিতীয় উইকেটে দারুণ ব্যাটিং করেন উসমান ঘানি ও করিম জানাত। দুজন মিলে মাত্র ৬৪ বলে যোগ করেন ১০২ রান।
ব্যক্তিগত পঞ্চাশ থেকে মাত্র ১ রান দূরে থাকতে থামে উসমানের ৩৪ বলে ৪৯ রানের ইনিংস। যেখানে ছিল ৫ চারের সঙ্গে ২টি ছয়ের মার। এরপর খানিক ধীর হয়ে আসে আফগানদের ইনিংস। ১২ ওভারে ১১১ থেকে পরের তিন ওভারে মাত্র ১২ রান করতে সক্ষম হয় তারা। সাজঘরে ফিরে যান ৩৮ বলে ৫৩ রান করা করিম।
মাঝের এই তিন ওভারের খরার পরও শেষপর্যন্ত ১৯৩ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় আফগানরা। এর পুরো কৃতিত্ব নাবীর। পাঁচ নম্বরে নেমে তিনি মোকাবিলা করেন মাত্র ১৫ বল। আর এতেই ২ চারের সঙ্গে ৪টি ছয়ের মারে স্কোরবোর্ডে যোগ করেন ৪০ রান। সঙ্গে অধিনায়ক আসগর আফগান ৭ বলে ১৪ রানের ক্যামিও খেলে অবদান রাখেন।

১৯৪ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে হালে পানি পায়নি জিম্বাবুয়ে। নির্ধারিত ২০ ওভার পুরোটা খেলতেও পারেনি তারা। ইনিংসের ১৭ বল বাকি থাকতে ১৪৮ রানের গুটিয়ে গেছে জিম্বাবুয়ের ইনিংস। ফলে সিরিজের শেষ ম্যাচটি এখন হয়ে গেছে নিছকই নিয়মরক্ষার কিংবা জিম্বাবুয়ের জন্য সান্ত্বনার জয় পাওয়ার।
জিম্বাবুয়ের ইনিংসের প্রথম বলেই আঘাত হানেন নবীন উল হক, ফিরিয়ে দেন তিনাশে কামুনহুকামুইকে। এরপর ব্যর্থ হন সিকান্দার রাজা, ওয়েসলে মাধভের কিংবা অধিনায়ক শন উইলিয়ামস। ফলে মাত্র ৫৬ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে বসে জিম্বাবুয়ে। তবু হাল ছাড়েননি ডোনাল্ড তিরিপানো ও রায়ান বার্ল।
এ দুজন মিলে ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে মাত্র ৪২ বলে যোগ করেন ৬২ রান। ইনিংসের ১৪তম ওভারে বার্ল ২৯ বলে ৪০ রান করে ফিরে গেলে কার্যত শেষ হয়ে যায় জিম্বাবুয়ের সম্ভাবনা। পরে তিরিপানো আউট হন ১৪ বলে ২৪ রান করে। এরপর চোখের পলকে জিম্বাবুয়ের লেজ মুড়ে দেন রশিদ খান।
আফগানিস্তানের পক্ষে বল হাতে সর্বোচ্চ উইকেট নিয়েছেন রশিদই। তার ৩ ওভারে ৩০ রান খরচ হলেও, শিকার ৩টি উইকেট। এছাড়া নবীন উল হক ও মোহাম্মদ নাবীর ঝুলিতে গেছে ২টি করে উইকেট। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন মোহাম্মদ নাবী।








