নিউজবাংলা ডেস্ক:

ইরানের শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী মোহসেন ফাখরিজাদেহকে হত্যায় স্যাটেলাইটের সাহায্য নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির আধা সরকারি বার্তা সংস্থা মেহের নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রিত একটি মেশিনগানের সাহায্যে গত সপ্তাহে তাকে হত্যা করা হয়।

ইরানের বিপ্লবী গার্ডি বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার আলি ফাদাভির বরাত দিয়ে মেহের নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তা নেওয়া হয়েছে। তাকে লক্ষ্য করে অস্ত্র তাক করাই ছিল। হামলাকারীরা সুযোগের অপেক্ষায় ছিল এবং সুযোগ পাওয়া মাত্রই ফাখরিজাদেহকে গুলি করা হয়।

রোববার এক বিবৃতিতে ফাদাভি বলেন, স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রিত ওই মেশিন গান থেকে মোট ১৩টি গুলি ছোড়া হয়েছে। হামলাকারীরা খুবই সুক্ষ্মভাবে এই হামলা চালিয়েছে। গাড়িতে ফাখরিজাদেহের মাত্র কয়েক ইঞ্চি দূরেই ছিলেন তার স্ত্রী। কিন্তু তিনি হামলা থেকে বেঁচে গেছেন এবং গুলি এসে ফাখরিজাদেহকেই আঘাত করেছে। তিনি বলেন, সে সময় ১১টি গাড়ি ফাখরিজাদেহ এবং তার স্ত্রীর নিরাপত্তায় ছিল।

শীর্ষ এই পরমাণু বিজ্ঞানীর মৃত্যুর পর থেকেই তার মৃত্যু নিয়ে নানা রকম তথ্য সামনে আসছে। একটি পিকআপ থেকে রিমোট কন্ট্রোল মেশিন গান দিয়ে যে বা যারা এই হামলা চালিয়েছে তারা ইতোমধ্যেই ইরান ছেড়ে পালিয়েছে বলেও বেশ কিছু গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির স্থপতি হিসেবে পরিচিত ছিলেন পরমাণু বিজ্ঞানী মোহসেন ফাখরিজাদেহ। গত ২৭ নভেম্বর তেহরানের পূর্বাঞ্চলে তার কাছাকাছি অন্য একটি গাড়ি থেকে রিমোট কন্ট্রোলড বন্দুকের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ড চালানো হয় বলে এর আগে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়।

প্রথম থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের জন্য ইরানের শীর্ষ নেতারা ইসরায়েলকে দায়ি করে আসছেন। যদিও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে ২০১৮ সালে ইরানের বিষয়ে একটি পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে করা একটি অভ্যন্তরীণ বৈঠকে ফাখরিজাদেহের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। এছাড়া ফাখরিজাদেহকে হত্যায় ইসরায়েলি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে ইরান। সে কারণেই সন্দেহের তীর এখন ইসরায়েলের দিকেই।

ফাখরিজাদেহ একটি বুলেটপ্রুফ গাড়িতে করে তার স্ত্রীকে নিয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। সে সময় নিরাপত্তাবাহিনীর বেশ কিছু গাড়ি তাদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিল। তখন একটি গাড়িতে বুলেট লাগার শব্দ হয়। তিনি তখন কী ঘটেছে তা দেখার জন্য বের হন। তিনি গাড়ি থেকে বের হওয়ার পর পরই একটি রিমোট কন্ট্রোলড বন্দুক থেকে গুলি ছোড়া হয়।

ফাখরিজাদেহের গাড়ি থেকে ১৫০ মিটার দূর থেকে তাকে গুলি করা হয়েছিল। তাকে কমপক্ষে তিনবার গুলি করা হয়। তার দেহরক্ষীকেও গুলি করা হয়। প্রায় তিন মিনিট ধরে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

এর আগে ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির হাতামির বরাত দিয়ে অপর আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ইসনা জানায় যে, ফখরিজাদেহের গাড়িতে বন্দুকহামলা চালানো হয়েছে। সে সময় বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে এবং এলোপাতাড়ি গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

নিরাপত্তা বাহিনীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে যে, ফখরিজাদেহের গাড়িতে বন্দুক হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ইরিবের এক খবরে বলা হয় যে, প্রথমে একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এরপরই হামলাকারীরা গুলি চালাতে শুরু করে।

এবারই প্রথম নয়। এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। ২০১০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ইরানের পাঁচজন পরমাণু বিজ্ঞানীকে হত্যা করা হয়েছে। অপরদিকে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইরাকে মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রধান কাশেম সোলেইমানি নিহত হন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশেই ওই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here