নিউজবাংলা ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতেও অনেক কুৎসিত দিক আছে। তবে এ কথা আগে কেউ কি কখনও শুনেছেন যে, প্রধান দুটি দলের কোনো প্রেসিডেন্ট প্রার্থী তার প্রতিদ্বন্দ্বীকে মাদকাসক্তির দায়ে অভিযুক্ত করেছেন? প্রেসিডেন্ট পদে আসীন থেকেই নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কায় ফলাফল প্রত্যাখ্যান করার ইঙ্গিত দিচ্ছেন কোনো নেতা? পরাজিত হলে প্রেসিডেন্ট ক্ষমতা ছাড়তে টালবাহানা করতে পারেন বলে প্রতিপক্ষ অভিযোগ করেছে কখনও? যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে বড় চমক দুই প্রার্থীর উত্তপ্ত বিতর্ক বাদ দেওয়ার দাবি তুলেছেন প্রভাবশালী কোনো রাজনীতিক?
এ ধরনের নজিরবিহীন কাদা ছোড়াছুড়ি সঙ্গে নিয়েই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে বিশ্বের একক পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র। নির্বাচনে লড়াইয়ের জন্য ডেমোক্রেটিক দল থেকে জো বাইডেন আগেই মনোনয়ন পেয়েছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বৃহস্পতিবার রিপাবলিকান দলের মনোনয়ন গ্রহণ করেছেন। এখন পর্যন্ত জনমত জরিপে বাইডেন সুস্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। ট্রাম্পও হাল ছাড়ার পাত্র নন। তিনি জয় ছিনিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর।
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, সব সময়ই ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। নির্বাচনী জনমতে কোনো প্রার্থী সুস্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও হাল ছেড়ে দেওয়ার কোনো উপায় নেই প্রতিপক্ষের। সে ক্ষেত্রে বড় চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায় ইলেক্টোরাল কলেজের ভোট। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ সরাসরি প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে ভোট দিলেও পপুলার ভোটে জয়-পরাজয় নিশ্চিত হয় না। ইলেক্টোরাল ভোটই নির্ধারণ করে জয়-পরাজয়। তা ছাড়া চার বছর পরপর নভেম্বরের নির্বাচনে ভোটাররা শুধু প্রেসিডেন্ট পদেই ভোট দেন না; একই সঙ্গে সিনেটের এক-তৃতীয়াংশ আসন ও প্রতিনিধি পরিষদেও নির্বাচন হয়। দু’দলেরই টার্গেট থাকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ের পাশাপাশি সংসদের উভয়কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন। তাতে আইন পাস তথা প্রেসিডেন্টের দেশ পরিচালনা সহজ হয়।
কার জয়ের সম্ভাবনা কতটুকু :যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে সাম্প্রতিক সব জনমত জরিপেই জো বাইডেন অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন। জুলাইয়ে ট্রাম্পের চেয়ে ১৩ পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন বাইডেন। করোনাভাইরাস মহামারি এবং পুলিশি বর্বরতার বিরুদ্ধে সোচ্চার যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা ট্রাম্পের প্রতি ক্রমেই বিরূপ হয়ে উঠতে থাকায় তার সমর্থন কমে যায়। তবে সম্প্রতি এই ব্যবধান অনেকটা কমাতে সক্ষম হয়েছেন ট্রাম্প। ২৮ আগস্ট পর্যন্ত গত এক সপ্তাহে প্রকাশিত জরিপের গড় ফলাফলে দেখা যায়, বাইডেন এখন ৭ শতাংশ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। তার সমর্থন ৪৯ শতাংশ এবং ট্রাম্পের পক্ষে ৪২ শতাংশ ভোটার। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পণ্ডিতরা সর্বশেষ যে পূর্বাভাস দিয়েছেন, তাতে দেখা যায়, বাইডেনের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা ৭৫ থেকে ৮৭ শতাংশ।
এবার ট্রাম্পের শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছয়টি অঙ্গরাজ্যেই বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছেন তিনি। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, উত্তরের যে তিন রাজ্যে আগেরবার ট্রাম্প হিলারি ক্লিনটনের চেয়ে ১০ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন, সেই শ্বেতাঙ্গ অধ্যুষিত রাজ্যেই এখন বাইডেন থেকে তিনি দুই সংখ্যার ব্যবধানে পিছিয়ে আছেন।
ব্ল্যাক লাইফ ম্যাটার্স আন্দোলন এবং এতে সহিংসতা, কনফেডারেট ভাস্কর্য রক্ষার ঘোষণা, অর্থনৈতিক সংকট, করোনাভাইরাসের ফিরে আসাসহ নানা ইস্যুতে বেশ বিপাকে পড়েছেন ট্রাম্প। শেষ পর্যন্ত ভোটের হারে এত বেশি ব্যবধান হলে ট্রাম্প যেমন শোচনীয় পরাজয় বরণ করবেন, তেমনি তার দল রিপাবলিকান পার্টিও বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
যুক্তরাষ্ট্রের জনমিতি বিন্যাসের কারণে রিপাবলিকানরা দুই দশক ধরে সিনেট, প্রতিনিধি পরিষদ ও ইলেক্টোরাল ভোটে যে বিশেষ সুবিধা ভোগ করত, তাও শেষ হয়ে যেতে পারে। জরিপে দেখা যাচ্ছে, শ্বেতাঙ্গদের মধ্যেও ট্রাম্পের সমর্থন কমেছে। এতদিন রিপাবলিকান প্রার্থীরা শ্বেতাঙ্গদের বেশি সমর্থন পেয়েছেন।
হিসাব বলছে, বাইডেন ১০ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হলে তিনি ৩৭৫টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট পাবেন। যুক্তরাষ্ট্রে ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট ৫৩৮টি। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হতে হলে দরকার ২৭০টি।
এত দুঃসংবাদের মধ্যেও ট্রাম্পের জন্য একটি সুখবর হতে পারে এই- তার সমর্থকদের অধিকাংশই একেবারে গোঁড়া। অন্যদিকে, বাইডেনের ক্ষেত্রে হিসাবটি ঠিক উল্টো। ট্রাম্পের বিরোধী বলেই বাইডেনকে সমর্থন জানাচ্ছে বহু মানুষ। খাঁটি বাইডেন সমর্থক মাত্র ৩৩ শতাংশ।
ট্রাম্প জয় পেতে মরিয়া। তবে শেষ পর্যন্ত পরাজিত হলে তিনি নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে যা আগে কখনও হয়নি। আশঙ্কা করা হচ্ছে, নির্বাচনে হেরে গেলে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতে অস্বীকার করতে পারেন ট্রাম্প।
এ ছাড়া ভোট গণনায় বিলম্ব হতে পারে; অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে মামলা হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে মামলা আগেও হয়েছে। তবে এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কী করবেন, তা নিশ্চিত কেউ বলতে পারছেন না। তিনি এক সময় বলেছেন, হারলে ক্ষমতা ছেড়ে অন্য কাজ করবেন। আবার বলেছেন, এ বিষয়ে এখনই তিনি কিছু বলতে পারছেন না। তাই ফলাফল নিয়ে সম্ভাব্য মতবিরোধের জের ধরে পরিস্থিতি নাজুক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অনেকে বলছেন, ফলাফল প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্র প্রস্তুত করে রাখতেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভোটে কারচুপির কথা আগে থেকেই বলে আসছেন।
২০১৬ সালের নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটন ৩০ লাখের বেশি ভোট পেয়েও জয়ী হতে পারেননি ইলেক্টোরাল ভোটের মারপ্যাঁচে। এর আগেও জর্জ বুশ ও আল গোরের মধ্যকার নির্বাচনে আদালতের হস্তক্ষেপ হয়েছিল। সেখানেও ডেমোক্র্যাটদের বিপক্ষে গিয়েছিল ফল। ইলেক্টোরাল কলেজ ব্যবস্থা ও জনমিতি বিন্যাসের কারণে রিপাবলিকান প্রার্থীরা কম ভোট পেয়েও বারবার মসনদে বসছেন।
এদিকে নির্বাচনে এবার কারচুপির জোরালো অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। বাইডেন বলেছেন, তার একমাত্র দুশ্চিন্তা হলো ট্রাম্প নির্বাচনে চুরি করার চেষ্টা করবেন। এমনকি হেরে গেলেও অফিস ছাড়বেন না। বাইডেনের আশঙ্কা, জর্জিয়াসহ বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ভোটাররা যেন ভোট দিতে না পারে, সেই চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে বাইডেনের এ মন্তব্যকে ষড়যন্ত্রতত্ত্ব বলে আখ্যা দিয়েছে হোয়াইট হাউস। আবার ডেমোক্র্যাট শিবির থেকেই দাবি উঠছে, শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প জয়ী হলেও তাৎক্ষণিক বাইডেন যেন পরাজয় স্বীকার না করেন।
রাজনৈতিক তিক্ততার মাত্রা বাড়িয়ে ট্রাম্প বলেছেন, প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের বিতর্কের আগে বাইডেনের মাদক পরীক্ষা করতে হবে। তার ইঙ্গিত হলো, বাইডেন একটু ঝিমুনি স্বভাবের হলেও হালে তিনি সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। এর পেছনে মাদকের সংযোগ থাকতে পারে। অন্যদিকে, কংগ্রেসের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি ট্রাম্পের সঙ্গে বিতর্কে না যেতে বাইডেনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এবারের নির্বাচনে ইস্যু :এবারের নির্বাচনেও বড় ইস্যু অর্থনীতি। করোনা মহামারির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে মন্দা দেখা দিয়েছে। এ কারণে ৭৯ শতাংশ ভোটার মনে করেন, নির্বাচনে সবচেয়ে বড় ইস্যু হবে অর্থনীতি। ৬৮ শতাংশ ভোটার মনে করেন, স্বাস্থ্যসেবাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে। করোনাভাইরাস মহামারি সামাল দেওয়ার বিষয়টিও মুখ্য হয়ে উঠবে ভোটের মাঠে। দেশটিতে ভয়াবহ অপরাধের ঘটনাগুলোও আলোচিত হবে বলে ৫৯ শতাংশ ভোটারের ধারণা। ৫৭ শতাংশ ভোটার মনে করেন, গুরুত্ব পাবে পররাষ্ট্রনীতি। এবারের ভোটে অভিবাসন ও বর্ণবৈষম্য তুলনামূলক কম গুরুত্ব পাবে। ভোটের রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়াবে জলবায়ু পরিবর্তন এবং গর্ভপাতের মতো বিষয়।
আসল যুদ্ধক্ষেত্র :যুক্তরাজ্যের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কয়েকটি রাজ্যের ভোটাররা দোদুল্যমান থাকেন। ফলে প্রার্থীদের এসব রাজ্যের প্রতি বেশি গুরুত্ব দিতে হয়। এসব রাজ্যকে বলা হয় ‘ব্যাটলগ্রাউন্ড স্টেট’ বা যুদ্ধক্ষেত্র রাজ্য।

নির্বাচনে রিপাবলিকান দুর্গ বলে পরিচিত রাজ্যগুলোকে বলা হয় ‘রেড স্টেট’ বা লাল রাজ্য আর ডেমোক্র্যাটদের প্রাধান্য পাওয়া স্টেটগুলোকে বলা হয় ‘ব্লু স্টেট’ বা নীল রাজ্য। কিন্তু হাতেগোনা কিছু রাজ্যের ভোট যে কোনো শিবিরে যেতে পারে। এগুলোই হলো নির্বাচনী রণক্ষেত্র। এগুলোকে অনেকে বলে থাকে ‘বেগুনি রাজ্য’। আর এই অঙ্গরাজ্যগুলোর ভোটই শেষ পর্যন্ত হয়ে দাঁড়ায় জয়-পরাজয়ে মূল চাবিকাঠি। ফলে এই রাজ্যগুলোতেই হয় মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এসব রাজ্যে ভোট কোন দুর্গে যাবে তা বোঝা কঠিন বলে এগুলোকে ‘সুইং স্টেট’ বা দোদুল্যমান রাজ্যও বলা হয়।
নির্বাচনের আগে যে কোনো সময় এই নির্বাচনী রণক্ষেত্রের ভোটের অঙ্ক বদলে যেতে পারে। গত কয়েকটি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যে রাজ্যগুলোর দোদুল্যমান ভোট প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর জয়-পরাজয় নিশ্চিত করেছে সেগুলোর মধ্যে ছিল কলোরাডো, ফ্লোরিডা, আইওয়া, মিশিগান, মিনেসোটা, নেভাদা, নিউ হ্যাম্পশায়ার, নর্থ ক্যারোলাইনা, ওহাইও, পেনসিলভানিয়া, ভার্জিনিয়া ও উইসকনসিন।
ফলাফল পেতে বিলম্বের শঙ্কা :যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ ভোটার নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেন। তবে বিকল্প পদ্ধতিতে ভোট দেওয়ার প্রবণতা সাম্প্রতিক সময়ে বাড়ছে। ২০১৬ সালে ২১ শতাংশ ভোটার ডাকযোগে আগেভাগেই ভোট দিয়েছিলেন। করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে মানুষ কীভাবে ভোট দেবে, এবার সেটা একটি বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে। অনেক রাজনীতিবিদ আরও বিস্তৃতভাবে পোস্টাল ব্যালট ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, এর ফলে বেশি জাল ভোটের সৃষ্টি হতে পারে। তবে তার এই বক্তব্যের পক্ষে সামান্যই তথ্যপ্রমাণ আছে।
এবার কংগ্রেস বা প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সব ক’টিতেই নির্বাচন হবে। সেই সঙ্গে সিনেটের ১০০ আসনের মধ্যে ৩৩টিতেও ভোট হবে। সব ভোট গণনা শেষ হতে বেশ কয়েক দিন লেগে যেতে পারে। তবে নির্বাচনের পরের দিন সকালেই মোটামুটি পরিস্কার হয়ে যায়- প্রেসিডেন্ট পদে কে বিজয়ী হতে যাচ্ছেন।
২০১৬ সালে রাত ৩টায় নিজের সমর্থকদের উদ্দেশে বিজয় ভাষণ দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে কর্মকর্তারা সতর্ক করে দিয়েছেন, এ বছরে হয়তো সবাইকে চূড়ান্ত ফলের জন্য আরও বেশি অপেক্ষা করতে হবে। হয়তো কয়েক দিন, এমনকি সপ্তাহ খানেকও লাগতে পারে। কারণ পোস্টাল ব্যালটের সংখ্যা অনেক বাড়তে পারে। সর্বশেষ ২০০০ সালে ফলাফল পেতে দেরি হয়েছিল। প্রায় এক মাস পর সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সিদ্ধান্ত আসে। এরই মধ্যে কথা উঠেছে যে, ফলাফল ঘোষণা বিলম্বিত হলে ন্যান্সি পেলোসি ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সব সময়ই নভেম্বর মাসের প্রথম মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এ হিসাবে এ বছর নির্বাচন হতে যাচ্ছে ৩ নভেম্বর। নতুন প্রেসিডেন্ট দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন ২০ জানুয়ারি।
কী পরিবর্তন আসবে বৈশ্বিক রাজনীতিতে :অনেকেই বলে থাকেন, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ক্ষমতার পালাবদল ঘটলেও পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো পরিবর্তন আসে না। এই ধারণা বহুলাংশে পাল্টে দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি চীনের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধে জড়িয়েছেন। ন্যাটোর সঙ্গে সম্পর্ক তলানিতে নামিয়েছেন। কয়েকটি মুসলিম দেশের অভিবাসীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তিনি মুসলিম বিশ্বে তীব্র সমালোচিত হয়েছেন। ফিলিস্তিনিদের ন্যায়সঙ্গত দাবি পদদলিত করে তিনি জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস স্থানান্তরসহ ইসরায়েল রাষ্ট্রের সব আবদার পূরণ করে চলেছেন।
বাইডেন ক্ষমতায় এলে এসব বিষয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আগেই ঘোষণা দিয়েছেন। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। ট্রাম্প ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে যে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন, তাতে পরিবর্তন আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। ক্ষমতার পালাবদলে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতেও ধাক্কা লাগবে। আরবের রাজারা ট্রাম্পের অকুণ্ঠ সমর্থন পেয়ে এলেও ডেমোক্র্যাটরা সেই ধারাবাহিকতার ছেদ ঘটাবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here